আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামা ব্যাঙ্ককর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার কর্মীদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখে রাহুল জানান, তাঁদের দাবির প্রতি তাঁর সমর্থন রয়েছে।
চিঠিতে রাহুলের বক্তব্য, আইডিবিআই ব্যাঙ্ক পুরোপুরি বেসরকারি হাতে চলে গেলে তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) প্রার্থীদের জন্য চাকরিতে সংরক্ষণের সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে এই শ্রেণিগুলির মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত ১৪ অক্টোবর আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বড় অংশের মালিকানা বিক্রির প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কানাডার বিনিয়োগকারী সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংসের কাছে ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য প্রায় ৫২,৮৭৮ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও ভারতীয় জীবন বিমা নিগম (এলআইসি) নিজেদের হাতে থাকা শেয়ারের একাংশ বিক্রি করবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে কেন্দ্রের হাতে প্রায় ১৫ শতাংশ এবং এলআইসি-র হাতে প্রায় ১৯ শতাংশ শেয়ার থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ইতিমধ্যেই আন্দোলন শুরু করেছে ব্যাঙ্কের কর্মী ও আধিকারিকদের যৌথ সংগঠন ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ আইডিবিআই অফিসার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ়’। বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার দাবিতে আগামী ২ ও ৩ নভেম্বর দেশজুড়ে ধর্মঘট এবং অনশনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
কর্মীদের আন্দোলনকে সমর্থন করে রাহুল তাঁর চিঠিতে ব্যাঙ্কের আর্থিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, কর্মীদের পরিশ্রমে গত বছর আইডিবিআই ব্যাঙ্ক ৯,০০০ কোটি টাকারও বেশি লাভ করেছে। ব্যাঙ্কের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার পরেও কেন তার মালিকানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
পাশাপাশি, ২০০৩ সালে তৎকালীন অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের দেওয়া সংসদীয় আশ্বাসের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন রাহুল। সেই সময় জানানো হয়েছিল, আইডিবিআই ব্যাঙ্কে সরকারের অংশীদারি অন্তত ৫১ শতাংশ থাকবে। বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই আশ্বাসের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


