আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন ৪২ বছর বয়সি ডেমোক্র্যাট মুসলিম নেতা আব্দুল আল-সায়েদ। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে তিনি মার্কিন সেনেটে যাওয়ার পথ তৈরি করেছেন। সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাঁর এই জয়ের ফলে প্রথম মুসলিম হিসেবে আমেরিকার সেনেটে জায়গা করে নিতে চলেছেন আব্দুল।এই জয় শুধু একটি নির্বাচনী লড়াইয়ের ফল নয়, ডেমোক্র্যাটদের বামপন্থী বা প্রগতিশীল অংশের কাছেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য আধিকারিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আব্দুলের। মিশিগানের স্বাস্থ্য দফতর এবং ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে লড়লেও জয় পাননি। দীর্ঘ বিরতির পর এ বার সেনেট নির্বাচনে নেমে বাজিমাত করলেন তিনি।নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। তাঁর মুসলিম পরিচয় এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে সামনে রেখে বারবার আক্রমণ চালিয়েছে রিপাবলিকান শিবির। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ একাধিক রিপাবলিকান নেতা তাঁকে উগ্রপন্থার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন। এমনকী, সেনেটে গেলে তাঁর জন্য আলাদা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। তবে এই ধরনের অভিযোগের কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। আব্দুল নিজেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেনধর্মীয় পরিচয় নিয়ে লাগাতার প্রশ্নের মুখে পড়লেও প্রচারে নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেননি আব্দুল। তাঁকে বারবার জানতে চাওয়া হয়েছিল, সেনেটর হলে তিনি মুসলিমদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেবেন কি না। এর জবাবে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন ছিল, শ্বেতাঙ্গ রাজনীতিকদের কি কখনও জিজ্ঞাসা করা হয় তাঁরা শুধু শ্বেতাঙ্গদের হয়ে কাজ করবেন কি না? তাঁর বক্তব্য, একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব দেশের সব মানুষের হয়ে কাজ করা।প্রচারে আব্দুলের মূল প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল সকলের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং ধনীদের উপর বেশি কর বসানো। রাজনীতিতে বড় সংস্থাগুলির প্রভাব কমানোর পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি। ইজরায়েলকে আমেরিকার সামরিক সাহায্য দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। পাশাপাশি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিরও সমালোচনা করেছেন।তাঁর প্রচারে সমর্থন জানিয়েছিলেন বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন এবং আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের মতো ডেমোক্র্যাট নেতারা। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তাঁর হয়ে প্রচারে অংশ নেন বলে নির্বাচনী প্রচারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় আব্দুল মিশিগানের ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। তাঁর কথায়, এই জয় তাঁদের সম্মিলিত চেষ্টার ফল। একদিকে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আক্রমণ, অন্যদিকে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো বিষয়কে সামনে রেখে প্রচার—সব মিলিয়ে মিশিগানের এই নির্বাচন ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন নিয়ে সেনেটে যাওয়ার পথে এগিয়ে গেলেন আব্দুল আল-সায়েদ।
‘জিহাদি’, ‘উগ্রপন্থী’ বলে লাগাতার আক্রমণের পর আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সেনেটর আব্দুল আল-সায়েদ! মিশিগানে হারালেন ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থীকে
Popular Categories

