দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে আবারও জয়ের হাসি ফুটল আইএসএফ শিবিরে। দলের প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকী আগের বারের মতোই নিজের আসন ধরে রাখলেন, তবে এবার ব্যবধান আরও বড়। ফলে এলাকায় তাঁর প্রভাব যে আরও বেড়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভোট গণনার শুরুটা অবশ্য একেবারেই আলাদা ছবি দেখাচ্ছিল। প্রথম কয়েকটি রাউন্ডে এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শওকত মোল্লা। অষ্টম রাউন্ড পর্যন্ত তিনিই লিড ধরে রেখেছিলেন। এতে তৃণমূল শিবিরে আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।
গণনা যত এগিয়েছে, আইএসএফের শক্তিশালী এলাকাগুলির ভোটের বাক্স খোলা হতে থাকে। আর সেখান থেকেই ব্যবধান দ্রুত বাড়াতে শুরু করেন নওশাদ সিদ্দিকী। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীকে বড় ব্যবধানে পিছনে ফেলে জয় নিশ্চিত করেন। মোট ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটে তিনি এগিয়ে থাকেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নওশাদ সিদ্দিকী প্রায় ৯২ হাজারের বেশি ভোট পান। অন্যদিকে শওকত মোল্লার ঝুলিতে যায় প্রায় ৬৪ হাজার ভোট। বিজেপি প্রার্থীও কিছু ভোট পেলেও মূল লড়াই ছিল আইএসএফ ও তৃণমূলের মধ্যে। সব মিলিয়ে ফলাফলে স্পষ্ট, ভাঙড়ে এবারও আইএসএফের ভিত্তি বেশ মজবুত।
এলাকার বিভিন্ন পঞ্চায়েতেও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রভাব দেখা গেছে। শুরুতে তৃণমূল প্রভাবিত অঞ্চলগুলোতে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, আইএসএফের শক্ত ঘাঁটিগুলো থেকে বিপুল ভোট পেয়ে শেষ পর্যন্ত ছবিটা পুরো ঘুরিয়ে দেন নওশাদ। বিশেষ করে বামনঘাটা, পোলেরহাট, শানপুকুর ও ভগবানপুরের মতো এলাকায় তাঁর পক্ষে বড় সমর্থন দেখা যায়।
জয়ের পর নওশাদ সিদ্দিকী জানান, এই ফল সাধারণ মানুষের সমর্থনের প্রতিফলন। তিনি এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অন্যদিকে পরাজয় মেনে নিয়ে শওকত মোল্লা বলেন, জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে আবারও আইএসএফের প্রভাব অটুট থাকল। একই সঙ্গে নওশাদ সিদ্দিকী নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় করলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


