উত্তরপ্রদেশে ভীমরাও রামজি আম্বেদকর-এর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত মার্চ মাসেই একের পর এক এমন ঘটনা সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলিত ভোটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিযোগিতার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, শুধু মার্চ মাসেই অন্তত চারটি জায়গায় আম্বেদকরের মূর্তি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে মীরাট জেলার ভগবানপুর গ্রামে একটি মূর্তির মাথা ভেঙে দেওয়া হয়। জানা গেছে, এক সপ্তাহ পরেই সেই মূর্তির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। ঘটনার পর গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রামের একাংশের অভিযোগ, কিছু উচ্চবর্ণের মানুষ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, যাঁদের রাজনৈতিক যোগ রয়েছে। আনন্দ পাল নামক এক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব কাজ করছে। তাঁর মতে, কিছু হিন্দুত্ববাদী নেতা দলিতদের সমর্থন পেতে মূর্তি স্থাপন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অন্য একটি গোষ্ঠী তা ভেঙে দেয়। আবার গ্রামে এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে, কিছু দলিত মানুষ নিজেরাই মূর্তি ভেঙেছেন, যাতে কোনও রাজনৈতিক দল এই বিষয়কে ব্যবহার করতে না পারে।
মঙ্গলবার এই ঘটনার প্রতিবাদে বহু গ্রামবাসী মূর্তির সামনে জড়ো হয়ে ধর্না দেন। এর আগেও ২২ মার্চ আল্লাহাবাদ জেলার রাতাউরা গ্রামে একটি মূর্তি ভাঙার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বহুজন সমাজ পার্টির নেতা নীরজ পাশি অভিযোগ করেছেন, পুলিশ এসব ঘটনায় যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ক্ষুব্ধ মানুষ প্রতিবাদে নামলেও পরে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে যান, আর প্রশাসনও বিষয়টি ভুলে যায়।
২০ মার্চ গাজীপুর জেলার ডিলা গ্রাম এবং ১৪ মার্চ লাখিমপুর খেরির পিপারা মারোদা গ্রামেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের অনেকেই চেনা হলেও ভয়ের কারণে কেউ অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, আগে সাধারণত উচ্চবর্ণের মানুষ এই ধরনের হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকত। তবে এখন রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। দলিত ভোট ধরে রাখার লড়াইয়ে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের স্বার্থে এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।


