অসমে মুসলিমদের উচ্ছেদ করা ও মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ধারাবাহিক ভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।জানা গিয়েছে ,যাদের বাড়ি-ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য সরকার পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। বিকল্প বাসস্থান বা জমির ব্যবস্থাও করা হয়নি বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার এক বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ডিব্রুগড়ে এক কর্মসূচিতে তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া মানুষজন যাতে ঘরভাড়া নিয়ে থাকতে বা কাজকর্মের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে না পারেন, সে বিষয়ে সমাজকে সজাগ হতে হবে। তার বক্তব্যে বাংলাভাষী মুসলিমদের লক্ষ্য করে কড়া মন্তব্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যের কিছু অংশে বহিরাগতদের সংখ্যা বাড়ছে এবং এতে অসমের সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষকে একজোট হয়ে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়, তাই জনগণের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
হিমন্ত বিশ্বশর্মা আরও জানান, উচ্ছেদ হওয়া কিছু মানুষ রাজ্যের উজান অঞ্চলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেই এলাকাগুলিতে নতুন করে বসতি গড়ে উঠতে না দেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় বাসিন্দাদেরই নিতে হবে। কোথাও অবৈধভাবে বসবাসের খবর পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলগুলি কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্য রাজ্যে বিভাজন বাড়াতে পারে এবং মুসলিমদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, উচ্ছেদ ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।


