বদ্রীনাথ ও কেদারনাথ মন্দির কমিটি (বিকেটিসি)-র কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা (টিএ-ডিএ) বাবদ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এক সমাজকর্মীর করা তথ্যের অধিকার (আরটিআই) আবেদনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই উত্তরাখণ্ডে তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সমাজকর্মী বিকাশ সিং নেগির দাবি, মন্দির কমিটির কয়েকজন সদস্য সরকারি নিয়মের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সফরকেও কমিটির সরকারি কাজ হিসেবে দেখিয়ে ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আরটিআই-তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন মাসে বর্তমান কমিটির সদস্যদের মনোনয়ন সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে কমিটির মাত্র একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, এই সময়ের মধ্যে একাধিক সদস্য ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা বাবদ উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ।
মন্দির সংক্রান্ত আইনের ২৬(চ) ধারা অনুযায়ী, কমিটির সদস্যরা শুধুমাত্র কমিটির সরকারি কাজে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেই ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা পাওয়ার অধিকারী। অভিযোগ, সেই নিয়ম উপেক্ষা করে বিভিন্ন ব্যক্তিগত বা অন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিতিকেও সরকারি দায়িত্ব হিসেবে দেখানো হয়েছে।
আরটিআই-তে আরও দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের বসন্ত পঞ্চমীতে বদ্রীনাথ মন্দিরের দ্বার খোলার দিন নির্ধারণ উপলক্ষে নরেন্দ্রনগর রাজপ্রাসাদে আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত থাকার ভিত্তিতে কয়েকজন সদস্য ভাতা নিয়েছেন। অভিযোগকারীর দাবি, ওই বৈঠকটি মন্দির কমিটির আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না। এছাড়াও দ্বারবন্ধ অনুষ্ঠান, মন্দির পরিদর্শন এবং হেলিকপ্টার ভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে ভ্রমণ ভাতা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। তবে এই বিষয়ে বদ্রীনাথ ও কেদারনাথ মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।


