নদিয়ার নবদ্বীপে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন চাষির অভিযোগ, মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পাট ছাড়াতে না দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় নবদ্বীপ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ সেতু সংলগ্ন ফরেস্টডাঙা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, ব্যাপক হারে মাটি কাটার ফলে একাধিক কৃষিজমির চেহারা বদলে গিয়ে তা কার্যত পুকুরে পরিণত হয়েছে।
গত শুক্রবার সকালে অভিযোগের ভিত্তিতে নবদ্বীপ থানার পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি ট্রাক্টর ও একটি জেসিবি মেশিন আটক করে। এরপরই কয়েকজন চাষি প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন।
ফরেস্টডাঙা চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা প্রবীণ পাটচাষি শিবশঙ্কর চৌধুরীর অভিযোগ, সংবাদমাধ্যম ও পুলিশের সামনে অবৈধ মাটি কাটার বিষয়টি তুলে ধরার পর তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এক স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী ও স্থানীয় এক বিজেপি নেতার উপস্থিতিতে তাঁকে পাট ছাড়াতে না দেওয়া, মারধর করা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। ওই ঘটনার জেরে পাট ছাড়ানোর কাজে নিযুক্ত শ্রমিকরাও ভয় পেয়ে কাজ ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ীরা। নতুন ঘোলাপাড়ার প্রতাপ ঘোষ দাবি করেন, তাঁরা সরকারি নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় রয়্যালটি দিয়েই মাটি কাটছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ব্যবসা তাঁরা বহু বছর ধরেই করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিজেপির ২১৫ নম্বর বুথ সভাপতি অসীম ঘোষ বলেন, এলাকায় উত্তেজনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, মাটি কাটার জন্য প্রয়োজনীয় রয়্যালটি দেওয়া হয়েছে বলেই তিনি জানেন। হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও অশান্তি এড়াতেই চাষিদের কিছু সময়ের জন্য সরে যেতে বলেছিলেন।
বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, যদি কোথাও বেআইনিভাবে মাটি কাটা হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, কোনও দলীয় নেতা বা কর্মী এই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সংগঠনের পক্ষ থেকেও যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নবদ্বীপ থানার পুলিশ। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।


