উত্তরাখণ্ডে একটি নামী জুতোর শোরুমে বজরং দলের কর্মীদের প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, সংগঠনের কয়েকজন সদস্য দোকানের ভিতরে ঢুকে কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং বিশেষ করে মুসলিম কর্মীদের লক্ষ্য করে অপমানজনক মন্তব্য করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেরাদুনের রাজপুত রোড এলাকায় অবস্থিত ওই শোরুমে বজরং দলের একাধিক কর্মী হাজির হন। অভিযোগ, সংগঠনের উত্তরাখণ্ডের আহ্বায়ক বিকাশ বর্মার নেতৃত্বেই এই বিক্ষোভ চলে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন কর্মী দোকানের ভেতরে ঢুকে ম্যানেজারদের নামের ব্যাজ খুলে নিচ্ছেন এবং সেখানে ‘জেহাদি’ শব্দ লিখে দিচ্ছেন। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দোকানের অন্যান্য কর্মীরাও।
ঘটনার পর বিকাশ বর্মা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, তাঁরা কোনও ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি। তাঁর দাবি, শোরুমের কয়েকজন হিন্দু কর্মী দীর্ঘ সময় কাজ করেও অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না এবং তাঁদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁরা দোকানে গিয়েছিলেন।
বিকাশের কথায়, এক কর্মী লিখিতভাবে তাঁদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, কিছু ম্যানেজার কর্মীদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছেন। এই কারণেই সংগঠনের সদস্যরা সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। যদিও দোকানে গিয়ে নামের ব্যাজে আপত্তিকর শব্দ লেখার বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলতে চাননি।
এদিকে, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন একটি শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগকে ধর্মীয় রঙ দেওয়া হল। সমাজের বিভিন্ন মহলের মতে, কর্মীদের সমস্যা থাকলে তা আইনি বা প্রশাসনিকভাবে সমাধান করা উচিত ছিল। প্রকাশ্যে এভাবে কাউকে অপমান করা ঠিক হয়নি বলেও মত অনেকের।
ঘটনার সময় শোরুমের কাছেই একটি পুলিশ চেকপোস্ট ছিল। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় চেকপোস্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সন্দীপ কুমার বলেন, তাঁদের কাছে এখনও কেউ অভিযোগ জানায়নি। তবে অভিযোগ জমা পড়লে নিয়ম মেনে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে।


