প্রায় ১৪ বছর আগে খুন হওয়া শিক্ষক ও সমাজকর্মী বরুণ বিশ্বাসের হত্যা মামলায় নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিলেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা জগদীশ বিশ্বাস। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ আদালতে হাজির হয়ে ছেলের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নিজের বক্তব্য জানান তিনি। বয়সের ভারে দুই সন্তানের সাহায্য নিয়েই আদালতে পৌঁছন ৯২ বছরের জগদীশ।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার ৩৮তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় জগদীশ এক প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম করেন। তাঁর অভিযোগ, ওই রাজনৈতিক নেতার নির্দেশে টাকা দিয়ে লোক নিয়োগ করে বরুণকে হত্যা করা হয়েছিল। ছেলের কথা বলতে গিয়ে আদালতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। এক সময় কেঁদেও ফেলেন বৃদ্ধ।
জগদীশের আরও অভিযোগ, বরুণ খুন হওয়ার পর তদন্তের সময়ে পুলিশ বা সিআইডির কাছ থেকে তিনি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি। নিজের বক্তব্য ঠিকমতো জানানোর সুযোগও তাঁকে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশনের কাছে আততায়ীদের গুলিতে প্রাণ হারান বরুণ। কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সেই সময় সুটিয়া এলাকায় নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে নাগরিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন বরুণ। পাশাপাশি স্থানীয় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করতেন। পরিবারের দাবি, তাঁর এই ভূমিকার কারণেই পরিকল্পনা করে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
বরুণের দাদা অসিত বিশ্বাসও দীর্ঘদিন ধরে একই অভিযোগ করে আসছেন। তাঁর দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নেতৃত্বেই হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল। বরুণের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি ফের খতিয়ে দেখার আবেদন করা হয়েছিল। নতুন করে থানায় অভিযোগও জমা পড়ে। মামলার শুনানিতে সোমবার সরকারি ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। মামলার কয়েকজন অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই প্রয়াত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর।


