বিহারের নালন্দা জেলার একটি স্কুলে মিড-ডে মিল ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, পড়ুয়াদের খাবারে নুনের বদলে মেশানো হয়েছে কাপড় কাচার গুঁড়ো সাবান। সেই খাবার খাওয়ার পরেই একের পর এক ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় অন্তত ৪০ জন পড়ুয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নালন্দার পারসি মিডল স্কুলে। প্রতিদিনের মতো এ দিনও অন্য একটি স্কুল থেকে মিড-ডে মিলের খাবার ওই স্কুলে পৌঁছয়। খাবার পরিবেশনের পর কয়েকজন পড়ুয়া জানায়, সয়াবিনের তরকারিতে নুন কম রয়েছে। এরপর স্কুলের তরফে তাদের খাবারে নুন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
অভিযোগ, সেই সময়ই ঘটে বিপত্তি। নুন দেওয়ার পরিবর্তে ভুল করে খাবারের সঙ্গে গুঁড়ো সাবান মিশে যায়। বিষয়টি প্রথমে কেউ বুঝতে পারেননি। পড়ুয়ারাও সেই তরকারি ভাতের সঙ্গে মেখে খেয়ে নেয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই কয়েকজনের শরীরে অস্বস্তি দেখা দেয়। কারও পেটে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়, আবার কেউ বমি করতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কয়েকজন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্কুলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বুঝে স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত অসুস্থ ছাত্রছাত্রীদের বিহার শরিফ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। চিকিৎসকেরা তাঁদের পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পড়ুয়াদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে সতর্কতার জন্য তাঁদের বুধবারও হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ভুলের কথা স্বীকার করেছে। তাঁদের প্রাথমিক ধারণা, স্কুলের কোনও কর্মী অসাবধানতাবশত নুনের জায়গায় সাবান ব্যবহার করে ফেলেছিলেন। কী ভাবে খাবার রাখার জায়গায় সাবানের প্যাকেট পৌঁছল এবং সেটি কী ভাবে নুনের সঙ্গে গুলিয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার হাসপাতালে যান বিহারের গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শ্রবণ কুমার। তিনি অসুস্থ পড়ুয়া এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। চিকিৎসা পরিষেবা ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
এদিকে ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, শিশুদের খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে এত বড় ভুল কী ভাবে হল। মিড-ডে মিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলেই দাবি তাঁদের। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।


