কলকাতা পুরভোটের দামামা বাজতেই প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে বিজেপির অন্দরে। রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর, এক-দু’জন নয়, বিজেপির হাতে পৌঁছেছে ৪৪ জন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারের নামের তালিকা। অভিজ্ঞ ও ‘পরীক্ষিত’ জনপ্রতিনিধিদের এই তালিকা ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে জমা পড়েছে বলে সূত্রের দাবি। সেখান থেকে তালিকা পৌঁছে গিয়েছে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও। তবে তালিকায় থাকা সকলেই যে কলকাতা পুরভোটে বিজেপির টিকিট পাবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পালাবদলের পর থেকেই বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে চর্চা চলছে। পুরভোটের সম্ভাবনা সামনে আসতেই সেই কোন্দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টিকিটের দৌড়। সূত্রের দাবি, কলকাতার একাধিক এলাকায় দলের অন্দরে একাধিক নেতা ও গোষ্ঠী নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর জন্য সক্রিয় হয়েছেন। ফলে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রার্থী বাছাইয়ে নেতৃত্বকে যথেষ্ট চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতেই প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারদের নাম সামনে এসেছে। বিজেপির অন্দরমহলের যুক্তি, দীর্ঘদিন পুর প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকা অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধিদের কাজে লাগালে স্থানীয় সংগঠন এবং পুর পরিষেবা—দুই ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। সেই কারণেই কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে তৃণমূলের ‘পরিচিত’ প্রাক্তন কাউন্সিলারদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রাক্তন মন্ত্রীদের নাম নিয়েও চর্চা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পর কলকাতা পুরসভায় এখন ২০৯টি ওয়ার্ড। সূত্রের খবর, দক্ষিণ কলকাতা ও বেহালা মিলিয়ে ২৪ জনের নামের একটি তালিকা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন এক বর্ষীয়ান মহিলা জনপ্রতিনিধি। ওই তালিকায় বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ প্রাক্তন কাউন্সিলার রয়েছেন। রয়েছেন প্রাক্তন মেয়র পরিষদদের পরিবারের সদস্য, একাধিক প্রাক্তন মেয়র পরিষদ এবং প্রাক্তন বরো চেয়ারম্যান। পাশাপাশি কয়েকজন নতুন মুখের নামও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দক্ষিণ কলকাতা ও বেহালা এলাকায় তালিকায় থাকা ‘পরীক্ষিত’ প্রাক্তন তৃণমূলীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়িত্বে দক্ষিণ কলকাতার এক বিজেপি নেতা রয়েছেন বলেও সূত্রের দাবি। উত্তর কলকাতার জন্য আরও ২০ জনের একটি তালিকা জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের মাধ্যমে জমা পড়া ওই তালিকাতেও প্রাক্তন কাউন্সিলার ও বরো চেয়ারম্যানদের নাম রয়েছে। এমনকি এক প্রাক্তন মহিলা মন্ত্রীর কন্যার নামও রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
পাটুলি, সাঁপুইপাড়া, কসবা, রাসবিহারী, নিউ আলিপুর, আলিপুর, ভবানীপুর, গার্ডেনরিচ, গড়িয়াহাট, দমদম, শোভাবাজার, উল্টোডাঙা, মুচিবাজার, বউবাজার, বাগবাজার-সহ কলকাতার একাধিক এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারদের নাম ওই তালিকায় রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। উত্তর কলকাতার বিজেপির এক প্রাক্তন কাউন্সিলারও বর্তমানে তৃণমূলে থাকা তাঁর পরিচিত প্রাক্তন কাউন্সিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে খবর।
এরই মধ্যে বেহালা এলাকার ফিরহাদ-ঘনিষ্ঠ এক প্রাক্তন বরো চেয়ারম্যান শিল্প ভবনে গিয়ে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও সেই সাক্ষাতের বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে শুধু বিজেপিই নয়, পুরভোটের প্রস্তুতিতে সক্রিয় তৃণমূলের বিভিন্ন শিবিরও। সূত্রের খবর, দুর্গাপুজোর পর নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা পুরভোট হতে পারে ধরে নিয়ে এগোচ্ছে কালীঘাট শিবির। ইতিমধ্যেই ওয়ার্ড ধরে ধরে প্রাক্তন কাউন্সিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। কোন ওয়ার্ডে কে এখনও দলের সঙ্গে রয়েছেন এবং কারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিকিটে ফের লড়তে আগ্রহী, তা জানতে ফোন করা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও পুরভোট নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক করেছে বলে খবর। তবে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারদের অনেকেই ঋত-শিবিরের হয়ে নির্বাচনে লড়তে এখনও আগ্রহী নন বলে সূত্রের দাবি।
সব মিলিয়ে কলকাতা পুরভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক শিবিরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপির হাতে থাকা ৪৪ জন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারের তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত কারা প্রার্থী হওয়ার ছাড়পত্র পান, এখন সেদিকেই নজর। সূত্রের দাবি, শুধু রাজনৈতিক পরিচিতি নয়, প্রার্থী বাছাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা ও ভাবমূর্তিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


