IIT বোম্বের ছাত্রের আত্মহত্যা, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা SIR এবং UPI লেনদেনে Merchant Discount Rate (MDR)—এই তিনটি পৃথক ইস্যুতে চলা প্রতিবাদের নেপথ্যে ‘কমিউনিস্ট-ইসলামিস্ট চক্র’ কাজ করছে বলে দাবি করল RSS-ঘনিষ্ঠ পত্রিকা Organiser। পত্রিকাটির ২৮ সেপ্টেম্বরের সম্পাদকীয়তে অভিযোগ করা হয়েছে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও আন্দোলনের নামে ‘ব্র্যান্ড ভারত’-এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে।
‘Protest Season – IIT Bombay, Election Commission & UPI: Saving Gandhi and Ambedkar from Marx and Mao’ শিরোনামের ওই সম্পাদকীয়তে Organiser-এর সম্পাদক প্রফুল্ল কেতকর দাবি করেছেন, বিক্ষোভে ইন্ধন দেওয়া, বিভিন্ন ইস্যুতে জাতিগত আবেগ উসকে দেওয়া, সরকারের প্রতি অনাস্থা বা বিচ্ছিন্নতার মনোভাব তৈরি করা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হেয় করাই ওই কথিত ‘চক্র’-এর পদ্ধতি।
সম্পাদকীয়তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ‘বাইরের ভারত-বিরোধী শক্তি’ এই আন্দোলনগুলিকে উৎসাহ ও অর্থ জোগাচ্ছে। পাশাপাশি, কিছু বিরোধী দল স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক স্বার্থে সেই প্রচেষ্টার অংশ হয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এগুলি Organiser-এর সম্পাদকীয়র অভিযোগ; স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে এগুলিকে উপস্থাপন করা হয়নি।
Organiser-এর সম্পাদকীয়র যুক্তি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত ‘সংবিধান বিপন্ন’ বয়ানের পর থেকেই প্রতিবাদের একটি নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। পত্রিকাটির দাবি, পরিচয়কেন্দ্রিক রাজনীতির মাধ্যমে শিক্ষার মতো বিষয়গুলিকেও জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে এবং তরুণদের সেই আন্দোলনে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই প্রবণতা ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন, এমনকি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত চলতে পারে বলেও সম্পাদকীয়তে অনুমান করা হয়েছে।
IIT বোম্বের এক ছাত্রের আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলে সম্পাদকীয়তে তাঁর মৃত্যুকে জাতিগত বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টার সমালোচনা করা হয়েছে। Organiser-এর বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় কথিত অনিয়ম এবং তার পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে জাতিভিত্তিক বৈষম্যের প্রশ্নে পরিণত করা হচ্ছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে IIT-এর মতো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ‘মতাদর্শ-চালিত সক্রিয়তা’র কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয় বলেও মত প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়েও সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা প্রকাশ্যে এনে নির্বাচনী গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
EVM এবং SIR নিয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে সম্পাদকীয়তে জানতে চাওয়া হয়েছে, এই ঘটনাগুলি নিছক কাকতালীয়, নাকি এর পিছনে কোনও বৃহত্তর বিন্যাস রয়েছে।
তবে UPI-র MDR নিয়ে Organiser-এর অবস্থানের সঙ্গে RSS-ঘনিষ্ঠ স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের (SJM) অবস্থানের স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গিয়েছে।
Organiser-এর সম্পাদকীয়তে ₹২,০০০-এর বেশি বাণিজ্যিক UPI লেনদেনে সর্বোচ্চ ০.৪ শতাংশ MDR-এর প্রস্তাবকে সমর্থন করে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এই চার্জ গ্রাহকের ব্যক্তিগত অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না এবং বাণিজ্যিক লেনদেনেও খরচ তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। সম্পাদকীয়তে UPI-কে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সাফল্য হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, RSS-এর অর্থনৈতিক শাখা হিসেবে পরিচিত SJM-এর জাতীয় সহ-আহ্বায়ক অশ্বিনী মহাজন এই MDR নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি সরকারের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি করেছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন, UPI একটি ‘public good’—তাই এর জন্য MDR চালু করা উচিত নয়।
SJM-এর বক্তব্য, UPI ব্যবস্থার ফলে ব্যাংকগুলির ATM ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত খরচ কমেছে। ফলে সাইবার নিরাপত্তা বা অন্যান্য খরচকে MDR চালুর যথেষ্ট কারণ হিসেবে দেখানো ঠিক নয় বলেও মহাজনের মত।
বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, ₹২,০০০-এর বেশি নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক UPI লেনদেনে MDR আরোপের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরাও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।
সম্পাদকীয়তে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও তীব্র অভিযোগ করা হয়েছে। Organiser-এর দাবি, তাঁরা ‘ভয়, ঘৃণা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি’ তৈরির লক্ষ্যে মার্ক্সবাদী, মাওবাদী এবং ইসলামপন্থী শক্তির উপর নির্ভর করছেন।
সমগ্র পরিস্থিতিকে ‘পুনরুত্থানশীল ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে সম্পাদকীয়তে।
তবে সম্পাদকীয়টির এই রাজনৈতিক অভিযোগ ও ব্যাখ্যাগুলি Organiser-এর নিজস্ব অবস্থান। এগুলিকে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্যের সমতুল্য নয়—এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে UPI-এর MDR নিয়ে RSS-ঘনিষ্ঠ SJM-এর প্রকাশ্য আপত্তি দেখাচ্ছে যে, এই নির্দিষ্ট নীতিগত প্রশ্নে বৃহত্তর সংঘ পরিবারের মধ্যেও একমত অবস্থান নেই।

