গো-রক্ষার নামে সহিংসতার অভিযোগে ফের বিতর্কে বিহার। সিওয়ান জেলায় গরুর মাংস নিয়ে যাওয়া সন্দেহে তিনজন মুসলিম ব্যক্তিকে আটক করে তাদের উপর নৃশংস হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে কথিত ‘গো রক্ষা দল’-এর সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গত ১২ মে ঘটে বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন ব্যক্তি কাঠের লাঠি দিয়ে তিনজনকে মারধর করছে। ভিডিওর একাংশে এক ভুক্তভোগীর কপাল থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। অন্য একটি দৃশ্যে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
ভিডিওতে শোনা যায়, আক্রান্তরা সাহায্যের জন্য বারবার অনুরোধ করছেন। অভিযোগ, হামলাকারীরা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং কথিত গরুর মাংসের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও উত্তেজিত জনতাকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। পরে হামলাকারীরাই আহত ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেয় বলে জানা গেছে। তবে এখনও পর্যন্ত সিওয়ান জেলা পুলিশ এই ঘটনায় কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে ‘কাউ ভিজিলান্টিজম’ বা গো-রক্ষার নামে স্বঘোষিত গোষ্ঠীর সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের হামলার সংখ্যা বাড়ছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগও উঠছে।
এই প্রেক্ষিতে বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-সহ কয়েকটি সংগঠনের বিরুদ্ধে অতীতেও অনুরূপ অভিযোগ সামনে এসেছে, যদিও সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এর ঠিক একদিন আগে, ১১ মে, পৃথক একটি ঘটনায় বজরং দলের কর্মীরা ২৭ বছর বয়সী আরিফ খান নামে এক যুবককে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে হেনস্তা করে বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় রাস্তায় ঘোরানো হয় এবং মুখে রং ও গোবর মাখানো হয়।
পরপর দুটি ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


