রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণে একের পর এক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একসময়ের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এখন বিরোধী শিবিরে। এর মধ্যেই দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে বিভাজন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সেই আবহে বীরভূম জেলার পাঁচ তৃণমূল বিধায়কের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টি আসনে জয়লাভ করে। এরপর থেকেই দলের ভিতরে নেতৃত্ব নিয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসে। দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কয়েকজন বিধায়কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পর বিরোধী শিবিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, তৃণমূলের একাংশের সমর্থনে নতুন গঠিত ‘ভালো তৃণমূল’ শিবিরে বেশ কয়েকজন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন। সেই শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন একাধিক বিধায়ক। বীরভূম জেলার পাঁচ বিধায়কও তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এরপরই প্রশাসনের তরফে ওই পাঁচ বিধায়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রত্যেকের জন্য অতিরিক্ত দু’জন করে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।
যাঁদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে খবর, তাঁরা হলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাঁসন কেন্দ্রের বিধায়ক কাজল শেখ, নলহাটির বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং, মুরারইয়ের বিধায়ক মোশারফ হোসেন, প্রাক্তন মন্ত্রী ও বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা এবং নানুরের বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হতে পারে। যদিও নিরাপত্তা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে রাজনৈতিক অন্দরে আরও জল্পনা ছড়িয়েছে যে ভবিষ্যতে তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙন দেখা দিতে পারে। যদিও এই ধরনের সম্ভাবনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সাংসদ বা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। ফলে বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক মহলের জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।


