বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইল সিপিএম। সেই উদ্দেশ্যেই শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে চিঠি পাঠালেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। কেরল বিধানসভা নির্বাচনের সময় কংগ্রেসের একাংশের নেতারা সিপিএম এবং বিজেপির মধ্যে ‘সমঝোতা’ রয়েছে বলে যে প্রচার চালিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছে চিঠিতে।
সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়্গেকে লেখা চিঠিতে এমএ বেবি উল্লেখ করেছেন যে কেরলের নির্বাচনী প্রচারের সময় কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ধারাবাহিকভাবে দাবি করেছিলেন, সিপিএম এবং বিজেপির মধ্যে গোপন সমঝোতা রয়েছে। এমনকি কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে রাজনৈতিক আঁতাঁতের অভিযোগও প্রকাশ্যে তুলেছিলেন কংগ্রেস নেতাদের একাংশ।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পিনারাই বিজয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতার করছে না, তা নিয়েও কংগ্রেস নেতারা প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমএ বেবির অভিযোগ, এসব মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং বিরোধী ঐক্যের পক্ষে ক্ষতিকর বার্তা দিয়েছিল।
ভোট পর্ব শেষ হওয়ার পর পিনারাই বিজয়নের বাসভবনে ইডির অভিযানের প্রসঙ্গও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। সেই ঘটনায় কেরল প্রদেশ কংগ্রেসের ভূমিকা এবং সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেরলে সিপিএম এবং কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-বিরোধী অবস্থানের কারণে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে দুই দল একসঙ্গে রয়েছে। ফলে জোটের বৈঠকের আগে এই ধরনের চিঠি বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তিকেই সামনে এনে দিল।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে এই চিঠি নিয়ে সিপিএমের একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই এ রাজ্যে বামপন্থীরা তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগ তুলে আসছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা নিয়েও অতীতে একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছে বাম নেতৃত্ব। ফলে কেরলের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের সমালোচনা করা পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের অবস্থানকে কিছুটা জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন পর্ব শেষ হওয়ার পর এই প্রথম বৈঠকে বসতে চলেছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। তবে বৈঠকের আগেই শরিক দলগুলির মধ্যে মতভেদ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ডিএমকে ইতিমধ্যেই বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে খবর। পাশাপাশি, রাজ্যসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশ্ন তুলে এমএ বেবির চিঠি বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে দিল। এখন খড়্গে বা কংগ্রেস নেতৃত্ব এই চিঠির কী জবাব দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


