মুম্বই-পুণে মিসিং লিঙ্ককে কেন্দ্র করে তৈরি বিজেপির একটি প্রচারমূলক ভিডিয়োই এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মাত্র ৯ সেকেন্ডের ওই রিলে ব্যবহার করা হয়েছিল পাকিস্তানের লাহোরের অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ড ‘বায়ান’-এর জনপ্রিয় গান ‘সাফর’। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রচার করতে গিয়ে এই গান বেছে নেওয়ায় বিজেপিকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন ভারত ও পাকিস্তান—দুই দেশেরই সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘সাফর’ গানটি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়। ইনস্টাগ্রাম রিলস ও টিকটকে গানটির ব্যবহার বেড়েছে। স্পটিফাইয়ে গানটির স্ট্রিমিং ৩ কোটি ৪৭ লক্ষেরও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিদিনও প্রায় ২ লক্ষ ৯৪ হাজার বার গানটি শোনা হয়। ফলে গানটি যে জনপ্রিয়, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
বিজেপির ওই ভিডিয়ো ‘এক্স’-এ প্রায় ১২ লক্ষ বার দেখা হয়েছে। কিন্তু প্রচারের পাশাপাশি শুরু হয় সমালোচনাও। কারণ, পাকিস্তানি শিল্পী ও কনটেন্ট নিয়ে ভারতের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে এই গানের ব্যবহারকে অনেকেই সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন।
২০২৫ সালের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পাকিস্তান থেকে আসা বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক তথ্যপ্রযুক্তি আইনের নিয়মের কথা উল্লেখ করে জানায়, পাকিস্তানি উৎসের কিছু কনটেন্ট ভারতের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও জনশৃঙ্খলার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর পর স্পটিফাই ইন্ডিয়া, ইউটিউব মিউজিক-সহ একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে পাকিস্তানি গান সরিয়ে দেওয়া হয়।
শুধু গান নয়, পাকিস্তানি অভিনেতাদের ছবিও বিভিন্ন প্রচারমূলক ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়। ‘সনম তেরি কসম’-এর অ্যালবাম কভারে মাহিরা হোসেনের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়। ‘রইস’ ছবির প্রচারমূলক ছবিতেও মাহিরা খানের উপস্থিতি বাদ পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপির ভিডিয়ো নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন, পাকিস্তানি শিল্পীদের নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচারের জন্য পাকিস্তানি গান কেন ব্যবহার করা হল। সমাজমাধ্যমে কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে বলেছেন, নিজেদের প্রচারে ভারতীয় গান না পেয়ে বিজেপিকে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি সুরের উপরই নির্ভর করতে হয়েছে।
তবে এমন সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব শুধু ভারতেই দেখা যায়নি। চলতি বছরের এপ্রিলেও পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা পেমরা, ভারতীয় শিল্পী আশা ভোঁসলেকে নিয়ে খবর সম্প্রচারের সময় ভারতীয় গান ও ছবির অংশ ব্যবহার করায় জিও নিউজকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছিল। ফলে দুই দেশেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব বারবার সংস্কৃতি ও বিনোদনের জগতেও পড়ছে।
বিজেপির ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্ক তাই শুধু একটি গানের ব্যবহার নিয়ে নয়। জাতীয়তাবাদ, সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বই ফের সামনে এসেছে এই ঘটনায়।


