অনলাইনে কোন কনটেন্ট থাকবে আর কোনটি সরিয়ে দিতে হবে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কড়াকড়ি বেড়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় চলতি বছরে ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন কনটেন্ট সরানোর নির্দেশের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ হয়েছে। কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩১ হাজার কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিয়ো, ডিপফেক, অনলাইন প্রতারণা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে এমন বিষয়বস্তু।কেন্দ্রের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে এই ক্ষমতার ব্যবহার এবং কনটেন্ট ব্লক করার নিয়ম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচির ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সামনে আসার পর সেই বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রায় ১২ হাজার কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালেও সংখ্যাটি প্রায় একই ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ২২ হাজারে পৌঁছয়। চলতি বছরে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই সংখ্যা ৩১ হাজার হয়েছে। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায়ও কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।কেন্দ্রীয় এক আধিকারিকের বক্তব্য, এআইয়ের মতো প্রযুক্তির সাহায্যে এখন খুব সহজেই ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো যায়। বিশেষ করে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়, এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই ব্লক করার নির্দেশ বেড়েছে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে।এই পদক্ষেপের ক্ষেত্রে মূলত তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৯এ ধারা ব্যবহার করা হয়। এই ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনলাইন তথ্য বা ওয়েবসাইট ব্লক করার ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রের হাতে। তবে কোন যুক্তিতে কোনও কনটেন্ট সরানো হচ্ছে, সেই সিদ্ধান্ত কতটা স্বচ্ছ এবং একটি পোস্টের বদলে কেন কখনও গোটা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।২০২১ সালে কৃষক আন্দোলনের সময় কিষান একতা মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্ট ও ওয়েব লিঙ্ক ব্লক করার নির্দেশ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে ২০২২ সালে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয় এক্স। সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। গত বছরও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কয়েকটি বিধান নিয়ে আদালতে যায় এলন মাস্কের সংস্থা।এ ছাড়া, ২০২৫ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় প্রায় দেড় হাজার ওয়েব লিঙ্ক ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই লিঙ্কগুলির মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছিল কেন্দ্র। তবে অনলাইনে ভুয়ো তথ্য রোখার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সরকারি সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রশ্নও এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Popular Categories

