প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে বিধান পরিষদের নির্বাচনে ফের জয় পেল সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। স্নাতক ভোটারদের জন্য নির্দিষ্ট আসনে বিজেপি প্রার্থী কেদারনাথ সিংহের পরাজয় মেনে নেওয়ার বার্তার পর রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এর আগে বারাণসীর শিক্ষক ভোটারদের আসনেও বিজেপিকে হারিয়েছিল এসপি। ফলে দুই আসনেই সমাজবাদী পার্টির জয় উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।স্নাতক আসনে ভোটগণনা চলার সময়েই বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন বিজেপি প্রার্থী কেদারনাথ সিংহ। সেখানে তিনি ভোটারদের ধন্যবাদ জানান এবং তাঁদের রায় মেনে নেওয়ার কথা বলেন। ফল আশানুরূপ না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করলেও দলের কর্মী-সমর্থকদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।গণনার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এসপি প্রার্থী আশুতোষ সিংহ পেয়েছেন ৫০,৪৬২টি ভোট। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী কেদারনাথ সিংহের ঝুলিতে এসেছে ৩৩,৬৭৪টি ভোট। অর্থাৎ, দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ১৬,৭৮৮ ভোট। দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনার মধ্যেই এই ব্যবধান তৈরি হয়। তবে গণনার সময় এসপি নেতা অখিলেশ যাদব তাঁর দলের কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। জয়ের শংসাপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত গণনাকেন্দ্র ছেড়ে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদের মোট ১১টি আসনে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ছ’টি আসনে বিজেপি এবং চারটিতে এসপি জয় পেয়েছে বলে প্রাথমিক ফলাফলে জানা গিয়েছে। বারাণসীর স্নাতক আসনটিতে এসপি-র জয় নিশ্চিত হলে দলের মোট জয়ী আসন বেড়ে পাঁচ হবে। ২০২০ সালের নির্বাচনে বিজেপি ছ’টি, এসপি তিনটি এবং নির্দল প্রার্থীরা দু’টি আসনে জিতেছিলেন। সেই তুলনায় এ বার এসপি-র আসন বেড়েছে।বারাণসীর শিক্ষক আসনেও বিজেপিকে হারিয়েছে এসপি। সেখানে বিজেপি প্রার্থী প্রমোদকুমার মিশ্রকে ৪,৮৯৮ ভোটে পরাজিত করেন সমাজবাদী পার্টির লালবিহারী যাদব। এ বার স্নাতক আসনেও একই ফল হওয়ায় বারাণসীতে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বারাণসী দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই জিতেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তার আগে বিজেপি নেতা মুরলীমনোহর জোশীও এই কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। তাই এই এলাকার নির্বাচনী ফল বিজেপির কাছে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ।বিধান পরিষদ উত্তরপ্রদেশের আইনসভার উচ্চকক্ষ। রাজ্যে এই পরিষদের মোট আসন ১০০। স্নাতক ও শিক্ষক ভোটারদের পাশাপাশি বিধায়ক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজ্যপালের মনোনীত সদস্যরাও এই পরিষদের অংশ হন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বারাণসীর দুই আসনে এসপি-র জয় রাজনৈতিক দলগুলির কাছে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বিধান পরিষদের এই ফল রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না।
মোদীর বারাণসীতে ফের ধাক্কা বিজেপির, বিধান পরিষদের দ্বিতীয় আসনেও জয়ী সমাজবাদী পার্টি! গণনা শেষের আগেই হার স্বীকার পদ্মপ্রার্থীর
Popular Categories


