শেষ আমেরিকার দাদাগিরি! এখন সুপার পাওয়ার চীন, বলছে ব্রিটিশ থিঙ্কট্যাঙ্ক

সাইফুল্লা লস্কর, বিশেষ পর্যালোচনা : ঠান্ডা লড়াইয়ের পর থেকে একচ্ছত্রভাবে এই নীল গ্রহ শাসন করে আসছিল সামরিক এবং অর্থনীতিক পরাশক্তি আমেরিকা। এবার তাদের সেই শাসক সুলভ দাদাগিরির দিন শেষ হতে চলেছে। কারণ বিশ্বের নয়া সুপার পাওয়ার এখন চীন। বলছে আমেরিকার ঘনিষ্ট মিত্র দেশ ব্রিটেনের এক থিঙ্কট্যাঙ্ক, মিলিটারী ডাইরেক্ট। সংস্থাটি বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুত করার জন্যও বিশ্ব বিখ্যাত খ্যাতির মালিক।

বিশ্বের সেরা ১০ টি ক্ষমতাশালী দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তালিকাটি তৈরির ক্ষেত্রে তারা মোট ১০ টি বিষয় বিবেচনা করেছে। বিষয়গুলো হল :-
১.দেশটির সামরিক বাজেট ২.দেশটির সক্রিয় সেনা সংখ্যা ৩.দেশটির সংরক্ষিত সেনা সংখ্যা ৪. দেশেটির স্থল যুদ্ধের সক্ষমতা ৫.নৌ যুদ্ধের সক্ষমতা ৬.বিমান বাহিনীর সক্ষমতা ৭.পারমাণবিক যুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষার সামর্থ্য ৮. দেশটির যুদ্ধাস্ত্রের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ৯. সেনাবাহিনীর গড় বেতন ব্যক্তিগত পর্যায়ে ১০. লেফটেন্যান্ট পর্যায়ের গড় বেতন। প্রতিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট বরাদ্দ ছিল।

 

এই তালিকায় সবার ওপরে থাকা চীন ১০০ এর মধ্যে মোট সর্বোচ্চ ৪২ পয়েন্ট লাভ করেছে। তার পর আমেরিকা এবং রাশিয়ার পয়েন্ট যথাক্রমে ৭৪ এবং ৬৯। প্রকাশিত তালিকায় ভারত চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। ভারতের প্রাপ্ত নম্বর ৬১। আশ্চর্যজনকভাবে সৌদি আরব এই তালিকায় পৃথিবীর ষষ্ঠ সর্বাধিক ক্ষমতাশালী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। কিন্তু পারমানিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্র পাকিস্তান তাদের সীমিত সামরিক বাজেট,সেনাসদস্যদের কম গড় বেতনের কারণে সর্বাধিক ক্ষমতাশালী ১০ দেশের মধ্যে থেকে ছিটকে গিয়েছে।

 

 

বাজেটের দিক থেকে সবার আগে আমেরিকা। তাদের সামরিক বাজেট ৭৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, তারপর চীন এবং ভারতের বাজেট যথাক্রমে ২৬১ এবং ৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও আন্তর্জাতিক গবেষকদের মতে চীন তাদের সামরিক খাতে প্রকাশিত তথ্যের বাইরেও বহু কোটি ডলার খরচ করে। সেনা সংখ্যার হিসেবে সবার আগে আছে চীন।

 

স্থল যুদ্ধে সব থেকে শক্তিশালী হিসেবে উঠে এসেছে রাশিয়া। তাদের কাছে সর্বোচ্চ সংখ্যক স্থল যুদ্ধের উপযোগী অত্যাধুনিক যুদ্ধ যান রয়েছে, যার সংখ্যা ৫৪ হাজারের বেশি। আমেরিকার হাতে এমন যুদ্ধাস্ত্র আছে ৫০ হাজারের কিছু বেশি যেখানে চীনের রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪১ হাজার। ভারতের কাছে এমন যুদ্ধ জান রয়েছে প্রায় ৯ হাজার। রাশিয়ার হাতে আছে অত্যাধুনিক মডেলের ১৩০০০ এর ও বেশী ট্যাংক। আমেরিকার কাছে আছে প্রায় ৬০০০ ট্যাংক।

 

আকাশ যুদ্ধের কথা বললে, ১৪,১০০ এর বেশি আকাশ যুদ্ধযান নিয়ে সবার আগে আছে আমেরিকা। তার পরে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে রাশিয়া (প্রায় ৪৬০০টি) এবং চীন(প্রায় ৩৫০০টি)। ভারতের কাছে যুদ্ধ বিমান এবং হেলিকপ্টার সহ মোট আকাশ যুদ্ধ যান আছে প্রায় ২১০০ টি।

 

বর্তমান সময়ের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র নৌ যুদ্ধে অন্যান্যদের থেকে অনেক এগিয়ে চীন। তাদের কাছে বর্তমানে আছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নৌবাহিনী। আছে ৪০৬ টি যুদ্ধজাহাজ। রাশিয়ার আছে ২৭৮ টি যুদ্ধ জাহাজ। আমেরিকার আছে ২০২ টি এমন নৌযোদ্ধা। ভারতের হাতে থাকা যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ২০২ হলেও তার মধ্যে ১৩৯ টিই সাধারণ পেট্রোল বোট। বর্তমান যুগে নৌযুদ্ধের সব থেকে ঘাতক হাতিয়ার সাবমেরিন সব থেকে বেশি আছে ভারতের প্রতিবেশী চীনের হতে, ৭৯ টি। আমেরিকা এবং রাশিয়ার হাতে আছে ৬৮ এবং ৬৪ টি। ভারতের কাছে থাকা সাবমেরিনের সংখ্যা মাত্র ১৭ টি।

 

 

পারমাণবিক যুদ্ধে সবার থেকে আগে আছে রাশিয়া এবং আমেরিকা। সেনাবাহিনীর সদস্যদের গড় বেতনের দিক থেকে এগিয়ে আছে আমেরিকা, কানাডা, রাশিয়া, সৌদি আরব ইত্যাদি দেশ। এই দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছে চীন এবং ভারত। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই রিপোর্টকে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের প্রকাশ করা সামরিক শক্তিধর দেশের তালিকার তুলনায় বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন। তবে পৃথিবী যে ধীরে ধীরে আমেরিকা কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এই রিপোর্ট তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। দ্রুত উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি চীনের এখন আমেরিকাকে অতিক্রম করে বিশ্বের স্বীকৃত সামরিক এবং অর্থনৈতিক পরাশক্তি হওয়া শুধু মাত্র সময়ের ব্যাপার। আর এটা খুব ভালো করেই জানে পেন্টাগনের কর্তারাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *