পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। বুধবার বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের দাম এক লাফে ১৯৫.৫ টাকা বেড়েছে। এর ফলে দিল্লিতে ১৯ কেজির একটি বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ২,০৭৮.৫ টাকা। এর আগে মার্চের ১ তারিখেও ১১৪.৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয়, গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দামে এখনই কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। ১৪.২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম দিল্লিতে এখনও ৯১৩ টাকা রয়েছে। শেষবার ৭ মার্চ গৃহস্থালির গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি—ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম—প্রতি মাসের প্রথম দিনে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের উপর ভিত্তি করে এলপিজি ও বিমান জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইরান ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’ কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহণ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে।
ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করে, যার বড় অংশই আসে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। ফলে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় দেশের বাজারেও প্রভাব পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার বিকল্প হিসেবে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, সাময়িক স্বস্তি দিতে সরকার ৬০ দিনের জন্য কেরোসিন বরাদ্দ করেছে। এই কেরোসিন রান্না ও আলোর কাজে ব্যবহার করা যাবে।
এদিকে এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সমস্যার মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সতর্ক করে বলেছেন, এই গ্যাস সংকট আরও বড় অর্থনৈতিক সমস্যার ইঙ্গিত। জানা গিয়েছে,সংসদের বাইরে বিরোধী সাংসদরা বিক্ষোভ দেখান এবং প্রধানমন্ত্রী ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর জবাব দাবি করেন।


