কোচবিহার জেলার শীতলকুচি ব্লকের গোলেনাওহাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম মন্টু মিঞা (৫২)। তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ ছিলেন এবং সিপিএম-এর সক্রিয় কর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও ছড়িয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার এলাকায় দীর্ঘদিন পর গরুর হাট বসেছিল। নির্বাচনের পর বিভিন্ন কারণে হাট বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবার তা চালু হয়। সেই দিনই এক ব্যক্তি নিজের কেনা গরু বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব মন্টু মিঞার উপর দেন। সন্ধ্যার পর তিনি গরুটি নিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে বাড়ি না ফেরায় তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে এলাকায় নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে কয়েকজন বাসিন্দা একটি দেহ ভাসতে দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। পরে মৃতদেহটি মন্টু মিঞার বলে শনাক্ত করা হয়।স্থানীয়দের দাবি, মৃতদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। মুখের একটি অংশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করার পর দেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনাস্থলের কাছেই একটি গরু ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। পরে গরুর মালিক সেখানে এসে সেটি নিজের বলে শনাক্ত করেন। এই ঘটনাকে ঘিরে তদন্তকারীরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। কী কারণে এই মৃত্যু, এর পিছনে কোনও অপরাধমূলক চক্র জড়িত কি না, অথবা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।মন্টু মিঞার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশীরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে অনেকেই স্তম্ভিত।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
গরু পৌঁছে দিতে বেরিয়েছিলেন হাটে, পরদিন নদীতে মিলল দেহ! কোচবিহারে সিপিএম কর্মীর রহস্যমৃত্যু
Popular Categories

