গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে ছিল বিশ্ব। বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড়সড় প্রভাব পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে এবার কিছুটা স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন সাধারণ মানুষ।
সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশ্বের বহু দেশ এই পথ ব্যবহার করে তেল ও গ্যাস আমদানি করে। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। একসময় প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১২০ ডলারেরও বেশি পৌঁছে যায়। এর প্রভাব পড়ে বিভিন্ন দেশের বাজারে, ভারতও তার বাইরে ছিল না।
তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সমঝোতার ফলে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করেছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা আগের তুলনায় স্থিতিশীল হয়েছে। বাজারে তেলের জোগান বাড়ায় দামও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭৬ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
এই মূল্যপতনের পর দেশের মানুষ এখন পেট্রোল ও ডিজেলের দামের দিকে নজর রাখছেন। অনেকেরই আশা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশের খুচরো বাজারেও তার প্রভাব পড়বে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেই সঙ্গে সঙ্গে পাম্পে জ্বালানির মূল্য হ্রাস পায় না। সেই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে।
তাঁদের মতে, খুচরো জ্বালানির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু অপরিশোধিত তেলের মূল্য নয়, ডলারের তুলনায় টাকার বিনিময় হার, পরিবহণ খরচ, কর এবং অন্যান্য ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দর কমলেও তার সম্পূর্ণ সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এদিকে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি সম্প্রতি জানিয়েছেন, তেল সংস্থাগুলির কাছে এখনও আগের বেশি দামে কেনা অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। সেই মজুত ব্যবহার শেষ হওয়ার পর কম দামের তেল পরিশোধন শুরু হলে জ্বালানির খুচরো দামে পরিবর্তন আসতে পারে।
তাই আপাতত আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ। আগামী দিনে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


