ওড়িশায় ফের দলিত হওয়ায় বৈষম্যের শিকারকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার ঘটনাটি সামনে এসেছে বরগড় জেলার ঝরবন্দ ব্লকের দেওয়ানপালি এলাকার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে। অভিযোগ, দলিত সম্প্রদায়ের এক মহিলাকে রান্নার দায়িত্ব দেওয়ার পর কিছু গ্রামবাসী তাঁর তৈরি খাবার খেতে অস্বীকার করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কাজকর্মও ব্যাহত হয়।
জানা গিয়েছে, প্রায় দু’মাস আগে পদ্মিনী জগত নামে এক মহিলাকে ওই কেন্দ্রের রান্নার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেছেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই গ্রামের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে শুরু করেন। অভিযোগ, অভিভাবকদের বলা হচ্ছিল যাতে তাঁরা সন্তানদের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে না পাঠান এবং সেখানে দেওয়া খাবার বা পুষ্টিকর সামগ্রী গ্রহণ না করেন।
পদ্মিনীর কথায়, তাঁকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছিল। শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর বাবা অবধূত জগতকেও বারবার এ বিষয়ে বলা হয়। পরিবারের দাবি, কয়েক দফা বৈঠক করে গ্রামবাসীদের একাংশ পদ্মিনীর পদত্যাগ দাবি করেন। কিন্তু কোনও কারণ ছাড়া চাকরি ছাড়তে রাজি হননি তিনি।
অভিযোগ, বুধবার কয়েকজন গ্রামবাসী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দরজায় তালা লাগিয়ে দেন। এর ফলে কেন্দ্রের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন এলাকার ছোট শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং সদ্য মা হওয়া মহিলারা। কারণ, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে তাঁদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ও অন্যান্য পরিষেবা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকেই পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
পদ্মিনী জানিয়েছেন, গ্রামের কয়েকজন তাঁর বাবাকে ডেকে বলেছিলেন যে তাঁদের মেয়েকে কাজ ছাড়তে বলতে হবে। কারণ তাঁরা তাঁর হাতে তৈরি খাবার গ্রহণ করবেন না। যদিও তাঁর বাবা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধুমাত্র সামাজিক পরিচয়ের কারণে চাকরি ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না। এরপরই কেন্দ্রে তালা লাগানোর ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।


