গুজরাটের রাজকোট জেলায় একটি মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে দলিত পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, হনুমান মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ায় ওই পরিবারকে অপমান করা হয়েছে এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজেশ যাদব নামে এক ব্যক্তি কুভাডভা রোড থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে সামাজিক পরিচয় নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি ভয় দেখিয়ে মন্দিরে না যাওয়ার জন্য চাপও দেওয়া হয়েছে।
রাজেশ যাদব পেশায় দিনমজুর। তিনি পরিবারের সঙ্গে প্রায় আড়াই বছর ধরে জালারাম সোসাইটি এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁর দাবি, সেখানে থাকার শুরু থেকেই এলাকার হনুমান মন্দিরে তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তি চলছিল।
গত ২২ জুন বিষয়টি গ্রামের প্রধানের কাছে তোলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রামের প্রধান উভয় পক্ষের কথা শোনার পর জানান যে মন্দিরটি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং সেখানে প্রার্থনা করার অধিকার প্রত্যেক বাসিন্দার রয়েছে। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হয়েছিল।
কিন্তু পরদিন সকালে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। রাজেশ যাদবের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী সপ্না যাদব এবং এলাকার আরও কয়েকজন মহিলা মন্দির সংলগ্ন স্থানে ধর্মীয় কাজে অংশ নেওয়ার পর কিছু ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর তাঁদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় রাজেশ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। শুধু তাই নয়, তাঁদের মন্দিরে যাওয়ার অধিকার নেই বলেও জানানো হয়। পরিবারটির দাবি, তাঁদের উপস্থিতির কারণে মন্দির অপবিত্র হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছিল।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হল, এক অভিযুক্ত রাজেশ যাদবের জামার কলার ধরে তাঁকে হুমকি দেন। এমনকি ভবিষ্যতে তাঁর স্ত্রী আবার মন্দিরে গেলে পুরো পরিবারকে ক্ষতি করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে যা তথ্য সামনে আসবে তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় জাতিগত বৈষম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


