উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলি জেলায় ড্রোন চুরির সন্দেহে ৩৮ বছর বয়সী এক দলিত ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ যেমন বাড়ছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
মৃত ব্যক্তির নাম হরিওম। তিনি ফতেহপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সন্দেহের বশে স্থানীয় কিছু মানুষ তাকে আটক করে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর করে। পরে উনচাহার এলাকার কাছে একটি রেললাইনের ধারে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এই ঘটনার তিনটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা গোটা ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একটি ভিডিওতে রেললাইনের পাশে তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে প্রশ্ন করছে এবং মারধর করছে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় তিনি কাতরাচ্ছেন, তবুও আক্রমণ থামেনি। তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। বরং উপস্থিত লোকজনের একাংশ তাকে আরও আঘাত করতে থাকে বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হরিওম হেঁটে কোথাও যাওয়ার সময় তাকে আটকানো হয়। এরপর তাকে অপমানজনকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং হাত বেঁধে ফেলা হয়। এমনকি অচেতন হওয়ার পরও তার ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, পরে তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেললাইনের কাছে ফেলে রাখা হয়, সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
মৃতের স্ত্রী পিঙ্কি জানিয়েছেন, তার স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি তার সঙ্গে দেখা করতে উনচাহারে এসেছিলেন, যেখানে তিনি কাজ করতেন। এই নির্মম ঘটনার জন্য তিনি দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তার কথায়, “আমার স্বামীকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে মারা হয়েছে। যারা এই কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”
এই ঘটনাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে সমাজে বাড়তে থাকা গণপিটুনির প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।


