বুধবার আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের সোনাপুর এলাকায় একটি সভায় বক্তব্য রাখছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। মূলত তিনি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, সেই বিষয়েই কথা বলছিলেন। কিন্তু বক্তব্যের মাঝেই হঠাৎ করে তিনি আলিপুরদুয়ার নাম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, এই এলাকার নামের কারণে নাকি উন্নয়নের গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর দাবি, বর্তমান নামের সঙ্গে অগ্রগতির কোনও ইতিবাচক সম্পর্ক নেই। বরং নতুন নাম দিলে এলাকার উন্নয়নের নতুন পথ খুলে যেতে পারে। এমনকি ক্ষমতায় এলে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানান।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই মনে করছেন, কোনও জায়গার নাম শুধুমাত্র শব্দের উপর ভিত্তি করে বিচার করা ঠিক নয়। নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগ।
প্রবীণ লেখক পরিমল দে এই প্রসঙ্গে বলেন, আলিপুরদুয়ার নামের মধ্যে ইতিহাসের ছাপ রয়েছে। অতীতের নানান ঘটনার সঙ্গে এই নাম জড়িয়ে আছে। তাই হঠাৎ করে তা পরিবর্তনের কথা বলা উচিত নয়। তাঁর মতে, আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে এমন চিন্তাভাবনা অপ্রাসঙ্গিক।
একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন লোকসংস্কৃতি গবেষক প্রমোদ নাথ। তিনি বলেন, কোনও মন্তব্য করার আগে সেই এলাকার ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। আলিপুরদুয়ার নামের উৎপত্তি ও তার গুরুত্ব নিয়ে আরও গবেষণা হওয়া দরকার বলেও তিনি মনে করেন।
এই ঘটনার পর থেকেই আলিপুরদুয়ার নামের উৎপত্তি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আবার অনেকেই মনে করছেন, উন্নয়ন একটি প্রশাসনিক ও পরিকল্পনার বিষয়, তার সঙ্গে নামের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দেশের বিভিন্ন জায়গার নাম পরিবর্তন নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এলাহাবাদ থেকে প্রয়াগরাজ বা মোগলসরাই থেকে দীনদয়াল উপাধ্যায় নগর, এই ধরনের উদাহরণ সামনে রেখেই অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মিল খুঁজছেন। এই মন্তব্য ঘিরে আলিপুরদুয়ারে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।


