‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক এবং ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ফ্রিজ করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত তাঁরা মানেন না—আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন কালীঘাট শিবিরের নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিকল্প নাম ও প্রতীক বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।
সূত্রের খবর, কালীঘাট তৃণমূলের তরফে ই-মেল মারফত নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের সম্ভাব্য তিনটি নাম এবং তিনটি প্রতীকের তালিকা পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠিতেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। নতুন দলের নামের ক্ষেত্রে ‘ম’ অক্ষর রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তির বিষয়টিও চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি পথে যাওয়ার বিষয়টিও খোলা রাখা হচ্ছে বলে খবর।
অন্যদিকে, শুক্রবার সকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের পছন্দের নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দিয়েছে। সূত্রের দাবি, তাদের সম্ভাব্য নামের তালিকায় রয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’। প্রতীকের ক্ষেত্রে খাম, ব্ল্যাকবোর্ড এবং টর্চ চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কাছে বর্তমানে ১৮৪টি মুক্ত প্রতীকের তালিকা রয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে এসি, আলমারি, আপেল, চুড়ি, দূরবীন, কম্পিউটার, সিসিটিভি, ব্যাটারি টর্চ, কেক, বিস্কুট, ক্যাপসিকাম, কোট, কানের দুল-সহ একাধিক প্রতীক। দুই শিবিরের জমা দেওয়া নাম ও প্রতীকের তালিকা খতিয়ে দেখার পর কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এই পরিস্থিতির তাৎপর্য আরও বেশি, কারণ ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা জোড়াফুল প্রতীক দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে দলের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে সেই প্রতীক এবং ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় উপনির্বাচনের ময়দানে দুই শিবিরকেই বিকল্প পরিচয়ে লড়তে হতে পারে।
তবে ‘তৃণমূল’ শব্দটি নতুন দলের নামে ব্যবহারের সুযোগ দুই শিবিরেরই রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কোন নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটের ময়দানে নামে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


