রাজধানী দিল্লিতে শিশু পাচারের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে রেলস্টেশনগুলিকে ঘিরে এই অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, শহরটি এখন শিশু পাচারের জন্য এক বড় কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ এই ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক, দিল্লি সরকার এবং পুলিশকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। আদালত প্রশ্ন তোলে, এত নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন এই অপরাধ কমছে না। বিচারপতিরা বলেন, নিউ দিল্লি বা নিজামুদ্দিন স্টেশনে অল্প সময় কাটালেই বাস্তব পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে যায়।
আদালতের মতে, শিশুদের সুরক্ষার জন্য কিছু নিয়ম ও নির্দেশিকা থাকলেও, সেগুলির সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতির কোনও উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের উদাসীনতাকেই এই সমস্যার একটি বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে প্রায় ৮৪ হাজার শিশু পাচারের শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। আদালত এই মামলায় জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনকেও যুক্ত করেছে। এছাড়া, আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি সরকার, নারী ও শিশু কল্যাণ বিভাগ এবং পুলিশকে আলাদা করে জানাতে বলা হয়েছে, তারা কীভাবে এই সমস্যা মোকাবিলা করবে।


