দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যেও মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী রিয়াজউদ্দিন মনসুরি এবং তাঁর ছেলে আরমান। তাঁদের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসী পদক্ষেপের ফলে বেশ কয়েকজনের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার সকালে হাউজ রানি এলাকার একটি বহুতল হোটেলে আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা ভবন। ভেতরে আটকে পড়া অতিথিরা প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। অনেকেই জানালা দিয়ে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠতে থাকে।
হোটেলের কাছেই গদির দোকান চালান রিয়াজউদ্দিন মনসুরি। তিনি ও তাঁর ছেলে আরমান আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। ভবনের ওপরের তলা থেকে মানুষজন লাফিয়ে পড়তে শুরু করলে তাঁরা দোকানের গদিগুলি রাস্তায় বিছিয়ে দেন। এর ফলে নিচে ঝাঁপ দেওয়া কয়েকজন তুলনামূলক নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাবা-ছেলের এই উদ্যোগ না থাকলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। রিয়াজউদ্দিন জানিয়েছেন, সেই মুহূর্তে ব্যবসার ক্ষতির কথা মাথায় আসেনি। মানুষের জীবন বাঁচানোই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তিনি বলেন, অনেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজেও তাঁরা সাহায্য করেছেন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও তাঁরা উদ্ধারকারী দলের পাশে ছিলেন। নিহতদের মরদেহ ঢাকার জন্য নিজেদের দোকান থেকে চাদর এনে দেন। এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় মানুষ এবং প্রশাসনের কর্মীরাও।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটিতে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও অসুস্থ অবস্থায় বহু মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে কয়েক ডজন মানুষকে। মৃতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হোটেলটিতে অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ঘাটতি থাকতে পারে। এছাড়া ভবনের কাঠামো ও কক্ষসংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পর হোটেলের মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না।


