নরেন্দ্র মোদি জমানায় বিশ্বমঞ্চে ভারতের সম্মানবৃদ্ধি ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যখন প্রতিনিয়ত প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব, ঠিক তখনই এক ভিন্ন সুর শোনা গেল আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের গলায়। বিজেপি সমর্থকরা যেখানে ইতিমধ্যেই ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে দাবি করতে শুরু করেছেন, সেখানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মনে করছেন, উপযুক্ত প্রস্তুতির অভাবেই ভারত এখনও সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।
নাগপুরে সংঘসেবকদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখার সময় মোহন ভাগবত স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর বহু সংকটের সমাধান করার ক্ষমতা ভারতের রয়েছে। ভারতের সময় এসেছে এবং দেশ একদিন নিশ্চিতভাবেই বিশ্বগুরু হবে। তবে এই যাত্রায় মূল বাধা হলো আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির অভাব। তাঁর মতে, কেবল সত্যের পথে চলাই আন্তর্জাতিক স্তরে সমীহ আদায়ের জন্য যথেষ্ট নয়। বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় যে দেশের শক্তি বেশি, পৃথিবী তাকেই বেশি সম্মান করে। তাই ভারতকে আরও শক্তিশালী ও প্রস্তুত হতে হবে।
সংঘপ্রধানের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যেখানে বিজেপি নেতারা দিনরাত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে তুলে ধরে প্রচার চালাচ্ছেন, সেখানে আরএসএস-এর এই মূল্যায়ন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ভাগবতের এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই বার্তা আসলে কার উদ্দেশ্যে? বিশেষ করে মোদি সরকারের নীতি বা প্রচারের সঙ্গে কি তবে সংঘের কোথাও একটা সূক্ষ্ম মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে আরএসএস প্রধান আসলে বিজেপি নেতৃত্বকে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে দেশের শক্তি বৃদ্ধিতে আরও বাস্তবমুখী হওয়ার পরামর্শ দিলেন। একই সঙ্গে এই ঘটনা শাসক দল বিজেপি ও তাদের আদর্শগত অভিভাবক আরএসএস-এর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বিমতকেও কিছুটা প্রকাশ্যে এনে দিল।


