পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও কিছু সময়ের জন্য সংঘাত থামলেও, ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে উত্তেজনা এখনও কমেনি। ফলে আবার বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানির সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সমস্যা আরও বাড়ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রধান সঞ্জয় মালহোত্রা, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়-এ এক বক্তব্যে জানিয়েছেন ‘মূল্যবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে’। তাঁর মতে, আমদানির পথে বাধা তৈরি হওয়াই এর প্রধান কারণ।
ভারত যে পণ্য বিদেশ থেকে আনে, তার একটি বড় অংশ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরশীল। শুধু তেল বা গ্যাস নয়, সারসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ জিনিসও ওই অঞ্চল থেকে আসে। পাশাপাশি ভারতের অনেক পণ্যও ওই অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়। ফলে এই অস্থিরতা দুই দিক থেকেই দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত বহু ভারতীয় নিয়মিত দেশে টাকা পাঠান। এই অর্থ দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অর্থপ্রবাহও বাধার মুখে পড়তে পারে।
যুদ্ধবিরতির পর শান্তি আলোচনার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ এখনও বজায় রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। পরিস্থিতি আবার খারাপ হলে পণ্য সরবরাহ পুরোপুরি ব্যাহত হতে পারে, যা ভারতের জন্য বড় সংকট ডেকে আনতে পারে।


