কোচবিহারের দিনহাটায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির এক নেত্রীর অভিযোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তাঁর দাবি, আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন কিছু ব্যক্তি এখন বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরেও অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে দিনহাটার বিজেপি নেত্রী শাবানা খাতুন অভিযোগ করেন, এলাকার কিছু ব্যক্তি যারা আগে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী বা সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তারা এখন বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন। তাঁর মতে, এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।
এই অভিযোগ অবশ্য পুরোপুরি অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি। বজরং দলের দিনহাটা নগর সংযোজক রূপম সাহা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সংগঠনে নেওয়া হয় না। তাঁর দাবি, সংগঠন মূলত সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করে থাকে। তাই তৃণমূলের কর্মীদের সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
বিতর্ক আরও বেড়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর। কিছু অনুষ্ঠানে এমন কয়েকজনকে দেখা গিয়েছে, যাঁরা আগে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পরিচিত। তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর জেরে বিভিন্ন মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে, রাজনৈতিক সমীকরণে কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে কি না।
অন্যদিকে, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের উত্তরবঙ্গের সহ-সংযোজক সুমন কর্মকার জানিয়েছেন, কোনও সংগঠনই আইনবিরোধী বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দেয় না। যদি কেউ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কাজ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিজেপির অন্দরেও মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে। দলের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করা পুরনো কর্মীদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কয়েকজন নেতা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, অভিজ্ঞ ও পুরনো কর্মীদের আরও বেশি দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তা না হলে ভবিষ্যতে দলের সাংগঠনিক ক্ষতি হতে পারে।
তবে বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি বলেন, দলের পুরনো কর্মীদের যথেষ্ট সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে সবাইকে একসঙ্গে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। দল সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই কাজ করছে।


