পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও সাবেক রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন রাজ্যসভার উপনির্বাচনের আগে তাঁর এই উপস্থিতি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সোমবার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নিউ টাউন, ভবানীপুর এবং বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তিনি আলিপুরের একটি সরকারি অতিথি ভবনে যান। সেখানে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সেই বৈঠকেই দেখা যায় সুখেন্দুশেখর রায়কে। আর এতেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। কারণ, তৃণমূল ছেড়ে দিলেও তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেননি।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের তিনটি রাজ্যসভার শূন্য আসনে উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে। এই আসনগুলির মধ্যে একটি সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগের ফলে খালি হয়েছিল। ফলে অনেকেরই ধারণা, বিজেপি তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, অমিত শাহের সঙ্গে একই বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
তবে সুখেন্দুশেখর এতদিন প্রকাশ্যে বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে কোনও স্পষ্ট বক্তব্য দেননি। যদিও অতীতে তৃণমূলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর থেকেই তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল।
বিজেপির একাংশের দাবি, রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য খুব শীঘ্রই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। সেই তালিকায় সুখেন্দুশেখর রায়ের নাম থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসেনি। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়।
সব মিলিয়ে অমিত শাহের বৈঠকে সুখেন্দুশেখর রায়ের উপস্থিতি এখন রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। আগামী দিনে তিনি কোন রাজনৈতিক পথ বেছে নেন এবং রাজ্যসভার নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।


