দিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা বৈঠকের ঠিক আগেই বড়সড় ভাঙন ধরল বিজেপি বিরোধী শিবিরে। কংগ্রেসের সঙ্গে আগেই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সঙ্গেও সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দিল তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে। আগামী ৮ জুন দেশের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের দল সেখানে যোগ দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। ডিএমকে নেতৃত্বের স্পষ্ট অবস্থান, যে জোটে বা বৈঠকে কংগ্রেস থাকবে, সেখানে তাদের থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
এই তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সূত্রপাত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে। দক্ষিণের এই রাজ্যে অভিনেতা বিজয়ের দল বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে আসতেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। মাত্র ৫টি আসন পাওয়া কংগ্রেস ভোটের আগে ডিএমকে-র জোটের সুবিধা নিলেও, ফল প্রকাশের পর স্ট্যালিনের হাত ছেড়ে অভিনেতা বিজয়ের দলকে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেয়। কংগ্রেসের এই একতরফা ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ পদক্ষেপে চরম ক্ষুব্ধ হয় ডিএমকে নেতৃত্ব। এমনকি লোকসভাতেও কংগ্রেস সাংসদদের পাশে বসতে আপত্তি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে তারা।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে স্ট্যালিনকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি। কেরলের মতো তামিলনাড়ুতেও রাজ্যে লড়াই এবং দিল্লিতে একজোট থাকার যে ফর্মুলা কংগ্রেস দিয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে ডিএমকে। লোকসভায় ২২ জন সাংসদ থাকা ডিএমকে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় সংসদের অন্দরে আসন পুনর্বিন্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল আটকানোর ক্ষেত্রে বিরোধী শিবির এক ধাক্কায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ল। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ভাঙন বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।


