দেশে লাগাতার চার দফায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় যখন মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, ঠিক তখনই আমজনতার ক্ষোভকে কার্যত উপহাস করে বিতর্কিত বয়ান দিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। মন্ত্রীর দাবি, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে নাকি জ্বালানির দাম অনেকটাই কম বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংকটের দোহাই দিয়ে তিনি জানান, বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে জাপানের পর ভারতই সবচেয়ে কম হারে পেট্রপণ্যের দাম বাড়িয়েছে। ফলে দেশে লাগাতার দামবৃদ্ধি নিয়ে যারা মোদী সরকারের সমালোচনা করছেন, তারা নাকি সামগ্রিক পরিস্থিতি না জেনেই অসত্য বলছেন। খোদ মন্ত্রীর মুখে এমন সাফাইয়ের পর সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে যে, তবে কি খুব শীঘ্রই ফের বাড়তে চলেছে পেট্রল, ডিজেল বা রান্নার গ্যাসের দাম?
রাজনৈতিক মহলের মতে, এর আগেও যখনই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী এই ধরণের সাফাই বা বিবৃতি দিয়েছেন, তার পরপরই দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর সেই জল্পনাই আরও তীব্র হয়েছে। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছেন যে, দেশে প্রায় ৩০ কোটি দু’চাকার গাড়ি এবং লক্ষ লক্ষ চারচাকার গাড়ি রয়েছে, যার জন্য বিপুল তেলের চাহিদা থাকে। সরকারের কাছে ৮০ দিনের তেল সঞ্চিত রয়েছে এবং কোনো পাম্পেই তেলের অভাব নেই।
কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যদি তেলের জোগান স্বাভাবিকই থাকে, তবে কেন বারবার দাম বাড়িয়ে পকেট কাটা হচ্ছে সাধারণ মানুষের? বিরোধীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার ফায়দা তুলে মোদী সরকার লাগাতার ট্যাক্স চাপিয়ে মুনাফা লুটছে। তেল সংস্থাগুলি লোকসান করছে— এই অজুহাত দিয়ে আসলে কর্পোরেটদের সুবিধা পাইয়ে দিতেই আমজনতার ওপর পরোক্ষে আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে। মন্ত্রীর এই নতুন বয়ান আগামী দিনে আরও বড় মূল্যবৃদ্ধির আগাম ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।


