কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবার নতুন একটি ইস্যু সামনে এনে সরব হয়েছে এক নতুন সংগঠন। ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে সরকারের নীতির বিরোধিতা করে আত্মপ্রকাশ করেছে ই-২০ জনতা পার্টি নামে একটি সংগঠন। তাদের মূল দাবি, সাধারণ মানুষ যেন বাধ্যতামূলকভাবে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল কিনতে না হয়। বরং একই দামে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রল কেনার সুযোগ থাকতে হবে।
সংগঠনটি দাবি করছে, জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রেও গ্রাহকের নিজের পছন্দের অধিকার থাকা উচিত। কোন ধরনের পেট্রল ব্যবহার করবেন, সেই সিদ্ধান্ত সরকার নয়, সাধারণ মানুষই নেবেন। এই দাবিকে সামনে রেখেই তারা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে সংগঠনটির অনুসরণকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করিকে ঘিরে নানা ভিডিও, মিম এবং পোস্টও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক মাধ্যমে।
তবে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বা নেতৃত্বে কারা রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও তাদের বক্তব্যে বারবার বলা হচ্ছে, এটি কোনও রাজনৈতিক দল নয়। এটি শুধুমাত্র গ্রাহকদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন।
গত কয়েক মাস ধরে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। অনেক গাড়ি মালিকের অভিযোগ, পুরনো গাড়ি ও মোটরবাইকে এই জ্বালানি ব্যবহারের পর মাইলেজ কমে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা এবং জ্বালানির ট্যাঙ্কে সমস্যার কথাও জানিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সরকারি স্তরে নির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত বা একমত মতামত এখনও সামনে আসেনি।
পরিবেশের বিষয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিছু পরিবেশবিদের মতে, ইথানল উৎপাদনে অতিরিক্ত জল ব্যবহারের কারণে ভূগর্ভস্থ জলের উপর চাপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে কেন্দ্রের দাবি, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করলে দূষণ কমে এবং আমদানি করা তেলের উপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পায়।
ই-২০ জনতা পার্টির দাবি, পেট্রল পাম্পে বিক্রি হওয়া জ্বালানির মিশ্রণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া উচিত। কোন পেট্রলে কত শতাংশ ইথানল রয়েছে, তার প্রভাব কী হতে পারে, মাইলেজ বা রক্ষণাবেক্ষণের খরচে কী পরিবর্তন আসতে পারে— এসব তথ্য প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির উপর স্বাধীন সমীক্ষা করে তার ফল সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে অসন্তোষের জেরে আগামী ৪ আগস্ট দিল্লিতে সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে দিল্লি ট্যাক্সি অ্যান্ড ট্যুরিস্ট ট্রান্সপোর্টারস অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের দাবি, পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ এই জ্বালানি নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেই কারণেই সংসদের সামনে বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


