নির্বাচন কমিশনের অন্দরে কাজের দায়িত্ব এবং ক্ষমতা নিয়ে তৈরি হওয়া টানাপড়েনের অবসান ঘটাতে নতুন পদক্ষেপ করল কমিশন। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্নার কাজের উপর ফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নজরদারি চালু করা হল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে সীমা খন্নাকে তাঁর দফতরের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার পবনকুমার শর্মার মাধ্যমে পাঠাতে হবে।বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সীমা খন্না প্রয়োজনের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছেন। এমনকি রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকদের ক্ষমতাও কার্যত খর্ব করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। দিল্লি থেকেই গোটা প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছিল।এই বিতর্কের সূত্রপাত গত ২৮ জুলাই। সে দিন একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব তৎকালীন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সঞ্জয় কুমারের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর পর থেকে সীমা খন্না সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট করার সুযোগ পান। ফলে তাঁর কাজের উপর কোনও উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নিয়মিত নজরদারি থাকছিল না বলে অভিযোগ।এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। তাঁদের আপত্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত সেপ্টেম্বর মাসে। সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একাধিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গত ১০ মাসে ১৪ বার লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন তাঁরা। সেই আপত্তি সত্ত্বেও সিদ্ধান্তগুলি কার্যকর করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।বিতর্কের পর কমিশন অবশ্য জানায়, ভোটার তালিকায় নাম যোগ করা বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজনীয় নথি খতিয়ে দেখার দায়িত্বও তাঁদের হাতেই থাকবে।বৃহস্পতিবারের নতুন নির্দেশিকায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব পবনকুমার শর্মার হাতে দেওয়া হয়েছে। ফলে সীমা খন্নার কাজের উপর ফের উচ্চপর্যায়ের নজরদারি চালু হল। কমিশনের এই পদক্ষেপকে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
Popular Categories


