পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন খোদ বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম। ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ বিধায়কের অনুগামীদের। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বুধবার ডেবরায় প্রতিবাদ মিছিল করলেন তাঁরা। তবে মিছিলে বিজেপির কোনও দলীয় পতাকা দেখা যায়নি। বরং ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, দুর্নীতি ও তোলাবাজি হঠাও’ স্লোগান লেখা ব্যানার নিয়ে পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। ব্যানারে ছিল ‘ডেবরার সচেতন নাগরিক মঞ্চ’-এর নাম।ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে। বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওমের দাবি, সেদিন ডেবরা থানার সামনে তিনি দলের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় বিজেপির অন্য একটি গোষ্ঠীর লোকজনের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, একপর্যায়ে ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা বিধায়কের সঙ্গীদের উপর হামলা চালান। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন বিধায়ক নিজেও। তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।এই ঘটনার জন্য সরাসরি দলেরই একাংশকে দায়ী করেছেন শুভাশিস ওম। তাঁর অভিযোগ, তোলাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা বিজেপির জেলা সভাপতির ঘনিষ্ঠ বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, বিধায়কের বিরুদ্ধে পাল্টা মারধরের অভিযোগ এনেছে বিজেপির বিরোধী গোষ্ঠী। ফলে একই দলের দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে ডেবরার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।বিধায়কের অনুগামীদের বক্তব্য, ঘটনার পর দু’দিন কেটে গেলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। তাঁদের প্রশ্ন, একজন জনপ্রতিনিধি আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগের পরেও কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? এই দাবিতেই বুধবার প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। দলীয় পরিচয়ের বদলে নাগরিক মঞ্চের ব্যানারে মিছিল করে তাঁরা নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির অন্দরেই তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। একসময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ তুলে বিজেপি সরব হত, এখন সেই একই অভিযোগে দলের নেতারাই একে অপরের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন।ডেবরার এই ঘটনা রাজ্যের শাসকদল বিজেপির অন্দরের সংঘাতকে ফের প্রকাশ্যে নিয়ে এল। তবে মারধর ও তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে এখনও দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে কোনও মিল নেই। ঘটনার তদন্ত এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
Popular Categories

