বাংলায় ক্ষমতা দখলের কয়েক মাসের মধ্যেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর। এবার বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। অভিযোগ, প্রতিপক্ষের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি চলে মারধর। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন বিজেপির মহিলা মোর্চার জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সভানেত্রী দেবীকা দেবনাথ। তাঁর পক্ষের আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে খবর। বুধবার রাতে দুই পক্ষই জামালপুর থানায় পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ ইতিমধ্যে দু’পক্ষের মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।স্থানীয় সূত্রে খবর, জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল এবং মণ্ডলের সহ-সভাপতি সুশান্ত মণ্ডলের অনুগামীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই বিবাদ চলছে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সেই বিরোধ আরও বেড়েছে। সুশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী দেবীকা দেবনাথও তাঁর স্বামীর গোষ্ঠীর সঙ্গে রয়েছেন। এর আগেও একাধিকবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এবার সেই বিবাদ আরও ভয়াবহ আকার নিল।এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়েছে কংগ্রেসের নামও। জেলা কংগ্রেস নেতা বুদ্ধদেব ঘোষের অভিযোগ, বুধবার পারাতল ১ নম্বর অঞ্চলের হিরণ্যগ্রামে যুব কংগ্রেসের একটি সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিজেপির কয়েকজন কর্মী সেই সভা ভেস্তে দেন। পরে জামালপুর কো-অপারেটিভ সোসাইটির কাছে তাঁর দোকানে হামলা চালানো হয়। তাঁর দাবি, বিজেপি নেতা মহেশ হাত ও ইন্দ্রজিৎ বসু ওরফে পিনা দলবল নিয়ে দোকানে ভাঙচুর করেন এবং জোর করে দোকান বন্ধ করিয়ে দেন। ভবিষ্যতে দোকান খুললে তাঁকে ও দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বুদ্ধদেবের।অন্যদিকে, যুব কংগ্রেসের সভার পাল্টা হিসেবে বুধবার বিকেলে বাইক মিছিল করেন প্রধান চন্দ্র পাল। অভিযোগ, সেই মিছিল থেকেই সুশান্ত মণ্ডল ও দেবীকা দেবনাথের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। উত্তর মোহনপুর গ্রামের আরও কয়েকটি বাড়িতেও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।সুশান্ত ও দেবীকার দাবি, প্রধান চন্দ্র পালের নেতৃত্বেই দেড় শতাধিক লোক তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। বাঁশ, লাঠি, শাবল ও ক্রিকেট খেলার উইকেট নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়। টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের পাশাপাশি বাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। দেবীকার দাবি, তাঁকে উইকেট ও গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান চন্দ্র পাল। তাঁর পাল্টা দাবি, সুশান্ত ও দেবীকার লোকজনই বাইক মিছিলে হামলা চালিয়ে তাঁর অনুগামীদের আহত করেছেন। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।এদিকে, বিজেপির এই সংঘর্ষ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেতা দেবু টুডু। তাঁর বক্তব্য, দুই গোষ্ঠীর মারামারিতে জামালপুরের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। এই ঘটনার প্রতিবাদে মানুষকে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পূর্ব বর্ধমানে বিজেপির গোষ্ঠীসংঘর্ষে রক্তারক্তি! বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব, রক্তাক্ত মহিলা নেত্রী, গ্রেফতার ৫
Popular Categories


