রবিবার হীরাকুণ্ড এক্সপ্রেসে সাধারণ কামরায় বসার জায়গা নিয়ে তর্কাতর্কির পর এক যাত্রী তিন মুসলিম সহযাত্রীকে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী বলে দাবি করেন। অভিযোগ মিলতেই ট্রেন থামিয়ে তল্লাশি শুরু হয়, ফলে যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় দতিয়া রেলস্টেশনে। রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে খবর, রমেশ পাসওয়ান নামক এক যাত্রী বসার জায়গা নিয়ে ঝামেলার জেরে রাগে তিন জন মুসলিম যাত্রী এইচ বিলাল জিলানি, ইশান খান ও ফাইজানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি নিয়ন্ত্রণকক্ষে ফোন করে জানান যে এই তিনজন মুসলিম যাত্রী নাকি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ শুনেই আরপিএফ, স্থানীয় পুলিশ ও জিআরপি দ্রুত ট্রেন পৌঁছে চারজনকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
এমনকি পুলিশ সাধারণ কামরাগুলিতে স্নিফার কুকুর দিয়ে তল্লাশি চালায়। পরে ঝাঁসি স্টেশনেও আরও এক দফা অনুসন্ধান হয়। কিন্তু কোথাও কোনো অবৈধ মালপত্র, বিস্ফোরক বা নিরাপত্তাহীনতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানান, এটি স্পষ্টতই এক মিথ্যা অভিযোগ, যার ভিত্তিই ছিল আসন নিয়ে ঝামেলা ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ। প্রায় তিরিশ মিনিটের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর ট্রেনটিকে বিশাখাপত্তনমের পথে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং চারজনকেই মুক্তি দেওয়া হয়।
রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই ধরনের ঘটনা সাম্প্রদায়িক পক্ষপাত ও উত্তেজনার কারণে আতঙ্ক ছড়ানোর কাজ করে। যদিও অভিযুক্ত যাত্রীর বিরুদ্ধে এখনও কোনো আইনি পদক্ষেপ ঘোষণা হয়নি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলিও উদ্বেগ জানিয়েছে যে, মিথ্যা অভিযোগের পরিণতি সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে।


