কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর গোয়ার পানাজি ও মাপুসায় আয়োজিত দুটি জনসমাবেশকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই দুটি অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদের সমর্থনে স্লোগান এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু করেছে গোয়া পুলিশ। শুধু অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু নয়, এর আয়োজনের জন্য অর্থ কোথা থেকে এসেছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দুটি কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ‘উজবা’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত কয়েকজন উমর খালিদের পক্ষে স্লোগান দেন এবং তাঁর সমর্থনে লেখা প্ল্যাকার্ডও হাতে দেখা যায়। এই ঘটনার পর পুলিশের নজরে আসে পুরো বিষয়টি।উল্লেখ্য, ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে উমর খালিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই কারণে তাঁকে ঘিরে প্রকাশ্যে সমর্থনের অভিযোগ ওঠায় গোয়ার ঘটনাও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন।তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়া পুলিশ প্রথমে দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পুরো পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।এদিকে ‘সিটিজেনস অব মাপুসা’ নামে একটি স্থানীয় সংগঠন ‘উজবা’-র বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের দাবি, জনসমাবেশে উমর খালিদের সমর্থনে স্লোগান দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বুধবার সংগঠনের সচিব আম্রিন শেখকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। পুলিশ তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সূত্রের খবর, মোট ২৪০টি প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। কর্মসূচির পরিকল্পনা কীভাবে হয়েছিল, কারা এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল, কারা উপস্থিত ছিলেন, প্রতিবাদের বিষয়ে যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা সিগন্যালের কোনও গ্রুপ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেই সব বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।উত্তর গোয়ার পুলিশ সুপার হরিশচন্দ্র মাদকাইকর জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থেই এই প্রশ্নগুলি করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ঘটনার সব দিক যাচাই করে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আপাতত ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও চলছে।পুলিশ এখন মূলত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথমত, এই কর্মসূচির আয়োজনের জন্য অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং দ্বিতীয়ত, কর্মসূচির পরিকল্পনার পিছনে আর কারা যুক্ত ছিলেন। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।গোয়ার এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেপ্তারের খবর নেই, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ সমস্ত সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।
Popular Categories


