পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর (E20) সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, ইথানল না মেশানো হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৩৫ ডলারে পৌঁছনোর সময় দিল্লিতে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ১২৫ টাকা হয়ে যেত।
মন্ত্রকের বক্তব্য, ইথানল মেশানোর কারণে সেই চাপ অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে দিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ৯৪.৭৭ টাকা রাখা সম্ভব হয়েছে। কারণ, প্রতি লিটার পেট্রলে ২০ শতাংশ দেশীয়ভাবে সংগ্রহ করা ইথানল ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে তেলের দামের বড় বৃদ্ধির সময় প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি সরকারের।
কেন্দ্র জানিয়েছে, E20 কর্মসূচির কারণে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্য অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে—এই অভিযোগ ঠিক নয়। ভর্তুকিযুক্ত এফসিআই চালও এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সরকার।
তবে গাড়ির মাইলেজ কমার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, E10 জ্বালানির জন্য তৈরি পুরনো BS-III, BS-IV ও কিছু BS-VI গাড়িতে E20 ব্যবহার করলে গাড়ির কার্যক্ষমতা ২ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। অন্য একটি সমীক্ষায় এই হার ৩ থেকে ৫ শতাংশ বলা হয়েছে।
সরকারের দাবি, ধাপে ধাপে পরীক্ষা ও পরিকাঠামো তৈরি করেই E20 চালু করা হয়েছে। গাড়ি নির্মাতা সংস্থা, তেল কোম্পানি এবং জ্বালানি শিল্পের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, কোটি কোটি দুই-চাকার ও চার-চাকার গাড়িতে E20 ব্যবহার হলেও এখনও ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

