উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির হাজিনগর জুটমিলে ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’-এর ঘোষণা ঘিরে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার। কাঁচামালের তীব্র সংকট এবং কাঁচা পাটের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে শনিবার কারখানার মূল ফটকে নোটিস ঝুলিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই শ্রমিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের জারি করা নোটিসে জানানো হয়েছে, বাজারে কাঁচা পাটের জোগান মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় এবং উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মিল চালানো আর সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই ৬ জুন থেকে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মিল পুনরায় চালু করা কঠিন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে নোটিসে।
তবে কর্তৃপক্ষের এই যুক্তি মানতে নারাজ শ্রমিকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, মিলের ভিতরে এবং বাইরে এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণ কাঁচা পাট মজুত রয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমানে যে পরিমাণ পাট রয়েছে, তা দিয়ে অন্তত আরও ২০ দিন থেকে এক মাস উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল।
এক শ্রমিকের অভিযোগ, কাঁচামালের সংকটকে অজুহাত করে শ্রমিক ছাঁটাই এবং উৎপাদন বন্ধের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, সাময়িক বন্ধের নামে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারের উপর।
শনিবার সকালে কাজে এসে মূল ফটকে ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’-এর নোটিস দেখতে পান শ্রমিকরা। এরপরই মিল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বহু শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হঠাৎ এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে উঠবে।
মিল বন্ধের ফলে কতজন শ্রমিক সরাসরি প্রভাবিত হবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি তথ্য সামনে না এলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক হাজার শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের জীবিকা এই জুটমিলের উপর নির্ভরশীল।
এদিকে, শ্রমিক সংগঠনগুলিও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসন এবং মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চেয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এবং কর্মসংস্থান রক্ষায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হোক।
হাজিনগর জুটমিলের এই পরিস্থিতি নতুন করে রাজ্যের জুট শিল্পের সংকটকে সামনে এনে দিয়েছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে একাধিক জুটমিল ইতিমধ্যেই সমস্যার মুখে। সেই আবহে হাজিনগর জুটমিলের ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’ শ্রমিক মহলে আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।


