NEET-UG 2026 প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারিতে তদন্তে বড় অগ্রগতি ঘটল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই শনিবার (১৬ মে) জীববিজ্ঞানের লেকচারার মনীষা মানধারেকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার জন্য National Testing Agency (NTA)-র প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
তদন্ত সূত্রে খবর, লাতুরের রসায়ন বিশেষজ্ঞ এবং এই চক্রের কথিত মূল হোতা অধ্যাপক পি ভি কুলকার্নিকে শুক্রবার আটক করে CBI। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরেই সামনে আসে নতুন তথ্য, যার ভিত্তিতে মানধারে-কে গ্রেপ্তার করা হয়। কুলকার্নি বহু বছর ধরে NEET প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
কর্তাদের দাবি, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে পূর্ণ প্রবেশাধিকার ছিল মনীষা মানধারের। অভিযোগ, সহঅভিযুক্ত মনীষা ওয়াঘমারে-র সঙ্গে যোগসাজশে তিনি ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, পুনেতে নিজের বাসভবনে বিশেষ কোচিং সেশন আয়োজন করতেন মানধারে। সেখানে বাছাই করা শিক্ষার্থীদের সামনে তিনি ফাঁস হওয়া প্রশ্ন এবং সঠিক উত্তর মুখে বলে দিতেন বলে অভিযোগ। এই ক্লাসে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল।
CBI সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই কোচিং সেশনে দেওয়া অধিকাংশ প্রশ্নই ৩ মে অনুষ্ঠিত NEET-UG পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়, যা তদন্তে বড় প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে।
একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন অধ্যাপক কুলকার্নিও। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ওয়াঘমারে-র সহায়তায় নিজের বাড়িতে কোচিং ক্লাস আয়োজন করেন তিনি। সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন, বিকল্প উত্তর এবং সঠিক উত্তর লিখে নেয়—যা পরে মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়।
এই বিশাল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চাপে পড়ে NTA শেষ পর্যন্ত NEET-UG 2026 পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। সারা দেশের ৫৫১টি শহর এবং ১৪টি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এই পরীক্ষা, যার জন্য প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার চার দিনের মাথায়, ৭ মে সন্ধ্যায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। পরদিনই বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে আনা হয়।
ইতিমধ্যে CBI একটি FIR দায়ের করেছে এবং গোটা ষড়যন্ত্রের উৎস খুঁজে বের করতে একাধিক তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও মধ্যস্থতাকারী জড়িত থাকতে পারেন।


