অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে তিনি বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু ও মুসলিমদের আলাদা করে দেখার কথা বলেন। তাঁর এই বক্তব্যে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।শনিবার এক নির্বাচনী সভায় সরমা বলেন, বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দু ও মুসলিমদের একসঙ্গে দেখা ঠিক নয়। তাঁর মতে, দুই সম্প্রদায়ের অবস্থান এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে বহু হিন্দু ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তাই তাঁদের শরণার্থী হিসেবে দেখা উচিত।অন্যদিকে, তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করছে, বিশেষ করে মুসলিম অনুপ্রবেশকারীরা, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো উচিত।এই প্রসঙ্গে তিনি সিএএ-এর কথাও উল্লেখ করেন। এই আইনের মাধ্যমে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম সংখ্যালঘুরা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পান, যদি তারা নির্দিষ্ট সময়সীমার আগে ভারতে প্রবেশ করে থাকেন। সরমা বলেন, এই আইনের মূল উদ্দেশ্যই হল নির্যাতিতদের সুরক্ষা দেওয়া।অসমের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, সেখানে জনসংখ্যার গঠনে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। তাঁর মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বহু অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং এই অভিযান চলবে।হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করার এই বক্তব্য দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবনার বিরুদ্ধে যায়। যদিও বিজেপি বা বিজেপি বরাবরই সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে এসেছে। বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে অভিবাসন ও নাগরিকত্বের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। সরমার এই মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুরা শরণার্থী, মুসলিমরা অনুপ্রবেশকারী— মন্তব্যে নতুন করে বিতর্কের মুখে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
Popular Categories


