দিল্লির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT)-তে এক পড়ুয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। সোমবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে জড়ো হতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। সন্ধ্যার দিকে প্রায় ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী প্রতিষ্ঠানের মূল ভবনের প্রথম তলায় ডিরেক্টরের দফতরের সামনে অবস্থান করেন। তাঁদের দাবি, পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা কয়েকজন আধিকারিকের পদত্যাগ, ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং মৃত পড়ুয়ার পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের দাবিও ওঠে।
দু’দিন আগে ৩১ বছরের এমএসসি ফিজিক্সের ছাত্র রিশিকেশের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, ক্যাম্পাসের একটি ভবনের ছ’তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মঘাতী হন। পড়ুয়াদের দাবি, ২০২৩ সাল থেকে এই নিয়ে IIT দিল্লিতে আটজন পড়ুয়ার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তাই বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ তাঁরা।
সোমবার সকালে লেকচার হল কমপ্লেক্সের কাছে পড়ুয়ারা জমায়েত করেন। সেখানে রিশিকেশের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাঁরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন। ছাত্রদের বক্তব্য, চলতি বছরের শুরুতে বাবার মৃত্যুর পর মানসিক সমস্যার কারণে রিশিকেশ এক সেমেস্টারের জন্য পড়াশোনা থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। চিকিৎসাও চলেছিল তাঁর।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনি হস্টেলে ফিরলেও ছুটির কারণে হস্টেলের তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের কাছ থেকে সুস্থতার ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও IIT হাসপাতাল থেকে ফের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয় বলে দাবি ছাত্রদের। শেষ পর্যন্ত রিশিকেশকে তাঁর মায়ের সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া বাড়িতে থাকতে হয়েছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, সমস্যার কথা জানালে অনেক সময় সহানুভূতির বদলে পড়ুয়াদেরই মানিয়ে নিতে বলা হয়। সোমবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় IIT কর্তৃপক্ষ সব ক্লাস বাতিল করে।
বিকেলের পর বিক্ষোভ মূল ভবনের সামনে চলে আসে। প্রায় ৩০০ পড়ুয়া ডিরেক্টর রঙ্গন ব্যানার্জির দফতরের বাইরে জড়ো হন। ছাত্রদের দাবি নিয়ে প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ডিরেক্টর। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তিনি জানান, রিশিকেশের মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে অ্যাসোসিয়েট ডিন অফ স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অধ্যাপিকা শ্রীদেবী উপাধ্যায়ুলাকে আপাতত পদ থেকে সরানো হবে না বলে জানান তিনি।
এই ঘোষণায় ক্ষোভ আরও বাড়ে। পরে শ্রীদেবীকে ভবনের পিছনের দরজা দিয়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। পড়ুয়ারা প্রশ্ন তোলেন, যাঁর কাছে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে ভয় পান, তিনি কীভাবে ছাত্রদের সমস্যার সমাধান করবেন?
পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল ছাত্ররা। তবে ডিরেক্টর জানান, রিশিকেশের একক মাকে ছ’লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁর চিকিৎসার যাবতীয় খরচও বহন করবে প্রতিষ্ঠান। এই ঘোষণাতেও সন্তুষ্ট হননি আন্দোলনকারীরা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা নাগাদ রিশিকেশ মূল গেট দিয়ে IIT ক্যাম্পাসে ঢুকেছিলেন। পরে লেকচার হল কমপ্লেক্সে গিয়ে লিফটে ছ’তলায় ওঠেন। সেখান থেকেই তিনি ঝাঁপ দেন বলে পুলিশের দাবি। চলতি বছরে এটি IIT দিল্লিতে দ্বিতীয় এমন ঘটনা। মার্চে ১৯ বছরের এক BTech পড়ুয়াকেও ক্যাম্পাসের একটি আবাসনে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।


