দেশজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক ভাষণ ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। এমনই দাবি করা হয়েছে ইন্ডিয়া হেট ল্যাব (আইএইচএল)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে। সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ অর্গানাইজড হেট-এর এই প্রকল্পের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ২১টি রাজ্যে মোট ১,৩১৮টি সরাসরি ঘৃণাভাষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই ঘটনাগুলির মূল লক্ষ্য ছিলেন মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের সঙ্গে তুলনা করলে বৃদ্ধি প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। রাষ্ট্রসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী এই ঘৃণাভাষণগুলির মধ্যে ছিল ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব প্রচার, হিংসার ডাক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কটের আহ্বান, উপাসনালয় ভাঙার দাবি এবং সংখ্যালঘুদের অমানবিক ভাষায় আক্রমণ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৯৮ শতাংশ বক্তব্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ছিল। খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে এমন বক্তব্যের সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অধিকাংশ ঘৃণাভাষণের ঘটনা ঘটেছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে। মোট ঘটনার প্রায় ৮৮ শতাংশই বিজেপি বা তাদের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের এলাকায় নথিভুক্ত হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং দিল্লিতে সবচেয়ে বেশি এমন ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল শাসিত রাজ্যগুলিতে এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের মতো সংগঠনগুলি সবচেয়ে বেশি ঘৃণাভাষণের আয়োজক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ‘লাভ জিহাদ’ -এর মতো শব্দ ব্যবহার করে ভয় ছড়ানো হয়েছে বহু ক্ষেত্রেই। সামাজিক মাধ্যমে এই বক্তব্যগুলির ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ঘৃণা ছড়ানোর গতি আরও বাড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলিকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবেই এই ঘৃণার রাজনীতি চালু রাখা হচ্ছে।


