পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে ভারতের জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জ্বালানির ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, দেশের অধিকাংশ জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, তাই অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো জরুরি।রবিবার হায়দরাবাদে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সংযমী হওয়া উচিত। তিনি জানান, প্রয়োজন ছাড়া জ্বালানি ব্যবহার না করলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে যে প্রভাব পড়ছে, তা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক স্তরে উত্তেজনা চললেও কেন্দ্রের তরফে কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপাল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ওপর দায় চাপানো ঠিক নয়। তাঁর মতে, সরকার আগে থেকেই প্রস্তুতি নিলে আজ এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হত না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের অর্থনীতি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে সাধারণ নাগরিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর থেকেই বাজারে এই নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর—এই দুইয়ের মাঝে সাধারণ মানুষ এখন অপেক্ষায়, আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।
‘ দেশবাসীর উপর দায় ঠেলছেন প্রধানমন্ত্রী’, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝে জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস
Popular Categories


