ইরানের মিনাব শহরে একটি স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই হামলায় প্রায় ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল ছোট ছোট পড়ুয়া ও শিক্ষক। এই ঘটনার জন্য সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীর দুই কর্মকর্তাকে দায়ী করেছে ইরান।
ইরানের তরফে যাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে, তারা হলেন লেই আর. টেট এবং জেফ্রি ই. ইয়র্ক। ইরানের অভিযোগ, এই দুই কর্মকর্তা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস স্প্রুয়েন্স থেকে হামলার নির্দেশ দেন। বলা হচ্ছে, মিনাবের শাজরেহ তায়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্য করে তিন দফায় টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
এই ঘটনাকে সামনে এনে ইরানের বিভিন্ন দূতাবাস, যেমন ভারত, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত দূতাবাসগুলি সামাজিক মাধ্যমে ওই দুই কর্মকর্তার ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে তাদের “অপরাধী” বলে উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, নিরীহ শিশুদের ওপর পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ভারতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস তাদের এক পোস্টে লেখে, “এই দুই অপরাধীকে মনে রাখুন। লেইঘ আর টেট ও জেফ্রি ই ইয়র্ক—যারা তিনবার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ দিয়ে মিনাবের একটি স্কুলে ১৬৮ নিরপরাধ শিশুকে হত্যা করেছে।” এই বার্তাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল-এর জরুরি বৈঠকেও এই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। সেখানে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, এই হামলা ছিল “পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে চালানো আক্রমণ”। তাঁর দাবি, ১৭৫ জনেরও বেশি ছাত্র-শিক্ষককে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় তিনি এই ঘটনাকে “যুদ্ধাপরাধ” এবং “মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” বলে আখ্যা দেন। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে তিনি এর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, একটি স্কুলে বোমা হামলার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই গভীর আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি করে। তাঁর কথায়, “এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।”
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও সরাসরি এই অভিযোগ স্বীকার করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে এই হামলা হয়তো অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলা সংঘাত ইতিমধ্যেই এক মাস পেরিয়ে গেছে। যুদ্ধের ৩০তম দিনে এসে এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।


