ঝাড়খণ্ডে এক চরম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে। এক নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা ও নৃশংসভাবে খুন করার পর, অপরাধের কোনও সাক্ষী যাতে না থাকে, সেই উদ্দেশ্যে তার মাত্র তিন বছর বয়সী ছোট ভাইকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই জোড়া খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে গোটা এলাকায়। এই জঘন্যতম অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সঞ্জিত কুমার পাসওয়ান নামে এক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে। নিহত দুই শিশু স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিরের সন্তান বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সঞ্জিত কুমার পাসওয়ান ওই ১১ বছর বয়সী নাবালিকা মেয়েটিকে একা পেয়ে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা করে। নাবালিকাটি বাধা দিলে এবং চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ঠিক সেই সময়েই সেখানে উপস্থিত ছিল মেয়েটির ৩ বছর বয়সী নিষ্পাপ ছোট ভাই। নিজের অপরাধ আড়াল করতে এবং ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষী যাতে বেঁচে না থাকে, সেই চরম ঠাণ্ডা মাথায় খুনে লালসা নিয়ে ওই অবুঝ শিশুটিকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে অভিযুক্ত।
ঘটনার পরই পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নামে। পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পিছনে সঞ্জিত কুমার পাসওয়ানের হাত রয়েছে। এরপরই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইন এবং খুনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই চরম অমানবিক ও নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। ধৃতের কঠোরতম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষজন।


